Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রাউট ও নব্যমানবতাবাদ

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

অস্তিত্বের সকল ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গতিশীলতার দ্রুতি থাকতেই হবে৷ গতির দ্রুতিই জীবনের মূল পরিচয় বহন করে৷ মানুষের দৈহিক সংরচনা পাঞ্চভৌতিক কিন্তু মানব জীবনের লক্ষ্য হচ্ছে পরমপুরুষ (Supreme Entity)। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমেই আমাদের যেতে হবে৷

প্রাউটের মূলেও রয়েছে এই গতিশীলতা৷ প্রাউট হচ্ছে একটি সামাজিক–অর্থনৈতিক দর্শন যা মানবজাতিকে অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে৷ পরমপুরুষের দিকে এগিয়ে চলা সকলের পক্ষেই একটা বিরামহীন প্রক্রিয়া৷ এই প্রক্রিয়ার অন্তে তুমি পরমপুরুষের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে৷

প্রাউট হচ্ছে মানবজাতির সামাজিক–আর্থিক মুক্তির পথ৷ প্রাউটকে চলতে হবে নব্যমানবতাবাদী ভাবধারার পাশাপাশি৷ নব্যমানবতাবাদী ভাবধারা মানুষকে চলার প্রেরণা জোগাবে৷ সেগুলো [মানব মনে] সৃষ্টি করবে সূক্ষ্মতর আভোগের এষণা আর সেই আভোগ জোগাবার ব্যবস্থা নেবে প্রাউট৷ এর তাৎপর্য হচ্ছে এই যে বহির্জগত ও মানসিক জগতের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে ও মানুষকে নিয়ে যেতে হবে আধ্যাত্মিকতার প্রবেশ দ্বারে৷

জাগতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে একটা ভারসাম্য, একটা সন্তুলন অবশ্যই রাখতে হবে৷ প্রাউট, নব্যমানবতাবাদী ও আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যে একটা ভারসাম্য অতি অবশ্য রাখা দরকার৷ তোমরা অবশ্যই এই তিনটির মধ্যে একটা ভারসাম্য রেখে চলবে৷ প্রাউট হচ্ছে সামাজিক–অর্থনৈতিক দিক, নব্যমানবতাবাদ মানসিক–ক্ষৌদ্ধিক দিক ও আধ্যাত্মিক সাধনা হচ্ছে অধ্যাত্ম–বোধির দিক৷ এই তিনের সম্মিলিত পথই হচ্ছে মানুষের মুক্তির পথ৷

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে পরমপুরুষে পরমাস্থিতি লাভ করা৷ আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে পূর্ণ প্রশান্তি, পূর্ণ আধ্যাত্মিক মিলন৷ একদিকে রয়েছে প্রাউটের সামাজিক–অর্থনৈতিক ঙ্মমুক্তিরক্ষ পথ, অন্যদিকে রয়েছে নব্যমানবতাবাদের মনস্তাত্ত্বিক পথ৷ মধ্যবিন্দুতে রয়েছে আধ্যাত্মিকতার পথ৷ সামাজিক–অর্থনৈতিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে অপূর্ণতা৷ প্রাউট ও নব্যমানবতাবাদের [পথে] আধ্যাত্মিকতার দ্বারপ্রান্ত অতিক্রম করা যায় না৷ আধ্যাত্মিক সাধনার পথেই তোমাকে সেই দ্বার অতিক্রম করে আধ্যাত্মিকতার রাজ্যে প্রবেশ করতে হবে৷

সামাজিক–আর্থিক নীতি কীভাবে মানুষের আধ্যাত্মিক ক্ষুধা মেটাতে সাহায্য করবে? মনে কর, সমাজে উঁচু ও নীচু জাতের মত সামাজিক বৈষম্য আছে৷ আর, তোমাদের এই বৈষম্য দূর করতে হবে, তার মানে সমাজ থেকে জাতপাতের ভিত্তিতে সৃষ্ট সমস্ত বৈষম্য তোমাদের দূর করতে হবে৷ সুতরাং জাতি প্রথাটাকেই উচ্ছেদ করতে হবে৷ হয় সামাজিক–অর্থনৈতিক, মানসিক না হয় আধ্যাত্মিক পথেই সমাজের বিভিন্ন প্রকারের বৈষম্য দূরীকরণের ব্যবস্থা থাকে৷ উক্ত জাতিভেদ প্রথার সামাজিক বৈষম্য প্রাউটের অধিক্ষেত্রে পড়ে৷ সুতরাং সমাজের সমস্ত বৈষম্য ও কৃত্রিম বাধা দূর করে এই সামাজিক–আর্থিক ব্যবস্থা [অর্থাৎ প্রাউট] মানুষকে ক্রমবর্ধমান তীব্রগতিতে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার সামর্থ্য জুগিয়ে, তার আধ্যাত্মিক ক্ষুধা মেটাবে৷

নব্যমানবতাবাদ প্রাউটকে সমস্ত বৈষম্য ও কৃত্রিম বিভেদ দূর করতে প্রেরণা ও শক্তি দেবে৷ প্রাউট নব্যমানবতাবাদ থেকে–নব্যমানবিক প্রেরণা থেকে, নব্যমানবীয় ভাবাদর্শ থেকে ও নব্যমানবিক চিন্তাধারা থেকে এগিয়ে চলার প্রেরণা ও প্রত্যয় পাবে৷

নব্যমানবতাবাদ অপ্রাণীন জগতের যথোপযুক্ত ব্যবহারের ও উপযোগিতা গ্রহণের গ্যারান্টি দিচ্ছে৷ তোমরা অবশ্যই যথোপযুক্ত ব্যবহারের গ্যারান্টি দিয়ে অপ্রাণীন জগতের সেবা করবে৷ ইংরেজী animate শব্দটির সংস্কৃত প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘চেতন’, inanimate –এ ‘জড়’, moveable–এর জঙ্গম, immovable ‘স্থাবর’, equilibrium-এর সন্তুলন, equipoise-এর ওজনগত ভারসাম্য ও balance–এর্ গতিগত ভারসাম্য৷ আমাদের সেবার অধিক্ষেত্র শুধুমাত্র চেতন জগতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তাকে প্রসারিত করতে হবে জড়জগতের বহিঃপ্রান্ত পর্যন্ত৷ এটাই যুগের দাবী৷ নব্যমানবতার দৃষ্টিতে আমাদের সেবার অধিক্ষেত্র সবসময় বেড়েই চলবে, তাকে সদা সম্প্রসারণশীল হতে হবে, ও তাতে চেতন জগৎ ও জড় জগৎ উভয়কেই রাখতে হবে৷

জড়জগতে সুবিচার দিতে হলে আমাদের নীতি কী হবে? প্রথমে আমাদের মানব জগতের ঊর্ধ্বে যেতে হবে, তারপর যেতে হবে প্রাণীজগতের ঊর্ধ্বে, তারপর অপ্রাণীন জগতের ঊর্ধ্বে যেতে হবে৷ উদ্ভিদ কম উন্নত, পশুরা তার থেকে বেশি উন্নত আর মানুষ আরও বেশি উন্নত৷ নব্যমানবতার পথে এরা সবাই আছে–এর অধিক্ষেত্রে প্রাণীন জগৎ ও অপ্রাণীন জগৎ উভয়ই রয়েছে৷

মানুষ জড়জগতের ঠিকমত যত্ন নেয় নি৷ যেমন মানুষ অনেক পাহাড় ও পর্বতের ক্ষতি ও ধ্বংসসাধন করেছে৷ তোমরা অবশ্যই পাহাড়–পর্বত ধ্বংস করবে না৷ নচেৎ বৃষ্টিপাত বিঘ্ণিত হবে৷ তোমরা ভূ–গর্ভস্থ জল ব্যবহার করবে না বা গভীর–গভীর নলকূপ ব্যবহারে উৎসাহ দেবে না কারণ এই ধরনের কূপের ওপর অতিনির্ভরতার ফলে জলের স্তর একদম নীচে নেবে যাবে ও তার ফলে ওপরের মৃত্তিকা স্তর শুষ্ক্ হয়ে গাছপালার মৃত্যু ঘটাবে৷ বৃষ্টির জল ও নদীর জল ব্যবহার করা সবচাইতে ভাল৷ ভূ–গর্ভস্থিত জল ব্যবহার না করে জলাধারে সঞ্চিত বৃষ্টির জল ব্যবহার করা উচিত৷ দৃষ্টান্ত হিসেবে বলছি, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় গত কয়েক বৎসরে ভূ–গর্ভস্থ জল ১৫ ফুটের মত নীচে নেবে গেছে৷ যদি এরকম চলতে থাকে তবে আগামী ১০০ বৎসরের মধ্যে নদীয়া জেলা মরুভূমি হয়ে যাবে৷ নদীয়া জেলায় অনেক নদী আছে, যেমন ভৈরব, খড়ে, ভাগীরথী ইত্যাদি৷ এই সব নদীর জল খাল ও উপখালের মধ্য দিয়ে নিয়ে গিয়ে তোলা সেচ ও পাম্পের সাহায্যে ব্যবহার করা উচিত৷ নদীয়া, খুলনা ও যশোর জেলায় জলসেচ ব্যবস্থা এরকই হওয়া দরকার৷ অতীতে রাজা, জমিদারেরা জলসঞ্চয় করতে বড় বড় সায়র ও জলাধার তৈরী করতেন৷ গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে এখনও এরকম অনেক জলাধার দেখতে পাওয়া যায়৷ নদীর জল ও ভূতলের উপরস্থ জল ব্যবহার করার যথাসাধ্য চেষ্টা তোমরা করবে৷

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • June 2019 (110)
  • May 2019 (129)
  • April 2019 (111)
  • March 2019 (138)
  • February 2019 (122)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 8
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved