প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

গবেষণাগার-শিশু

বিজ্ঞান দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছেএগিয়েই চলেছে,এগিয়ে যাবেও বিজ্ঞানের নিন্দা করে কেউ তার অগ্রগতি রোধ করতে পারবে না যে সে ধরণের চেষ্টা করতে যাবে সে নিজেই পেছিয়ে পড়বে---বর্তমান জগৎ থেকে বাতিল হয়ে যাবে মানুষ৷ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানুষের আয়ুকে অবশ্যই দীর্ঘায়িত করতে

জন্মনিয়ন্ত্রণ

পৃথিবীর জনসংখ্যা দ্রুত বেড় চলেছে৷ অনেকেই এতে রীতিমত শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন৷ পুঁজিবাদী দেশগুলিতে এজন্যে শঙ্কিত হবার যথেষ্ট কারণও রয়েচে৷ যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি মানেই জনগণের অধিকতর দারিদ্র্য৷ কিন্তু সামূহিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হবার কোন কারণ নেই৷ সামগ্রিক জনসংখ্যার আহার্য বা বাসস্থানের টান পড়লে তারা মিলিত প্রচেষ্টায় অনাবাদী অঞ্চলে নূতন শস্যক্ষেত্র গড়ে তুলবে

বিশশ্বৈকতাবাদ

ব্যষ্টিগত জীবনে মানুষের মন যত উদার বা পরিব্যাপ্ত হতে থাকে ততই সে উপজাতীয় মনোভাব, সাম্প্রদায়িকতা, প্রাদেশিকতা প্রভৃতির ঊধের্ব উঠতে থাকে৷ অনেককে বলতে শুণি জাতীয়তাবাদ (nationalism) জিনিসটা বেশ ভাল---তাতে কোনো সংকীর্ণতা নেই৷ কিন্তু কথাটা কি ঠিক?

ক্ষমা

সামগ্রিক দৃষ্টির অভাবই অধিকাংশ অনর্থের মূল সৎ মানুষ দুলের ওপর করে চলেছে অত্যাচার-অবিচার৷ সবল মানব-গোষ্ঠী দুর্বল মানবগোষ্ঠীর ওপর করে চলেছে শোষণ৷ এ অবস্থায় সৎ মানুষ মাত্রেরই কর্তব্য অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা৷ নৈতিক উপদেশ কবে কাজ দেবে তার জন্য অনন্তকাল বসে থাকা চলে না৷ তাই সৎব্যষ্টিগণকেও সংঘবদ্ধ হতে হবে৷ দানবদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্যে প্রস্তুতিও চালিয়ে যেতে হবে৷৷ সামূহিক জীবনের ওপর অথবা কোনো মানব-গোষ্ঠীর ওপর যারা নির্যাতন চালায় তাদের ক্ষমা করা চলে না৷ সে ক্ষেত্রে ক্ষমা শুধু দুর্বলতাই নয়, তাতে অন্যায় প্রশ্রিত হয়---অন্যায়কারী বেপরোয়া হয়ে ওঠে৷ ব্যষ্টিগত জীবনে কোন নির্দোষ ব্যষ্টির ওপর অসা

এজমালী সম্পত্তি

বিশ্ব-হ্মাণ্ডের প্রতিটি অণু-পরমাণুও সকল জীবের এজমালী সম্পত্তি৷ নীতিগতভাবে এটা মেনে নিতেই হবে, আর এ কথাটা স্বীকার করার পরে এদেশী ও বিদেশী, অমুকের অমুক দেশের নাগরিক হবার যোগ্যতা আছে আর অমূকের নেই অথবা রাষ্ট্রীয় অধিকার অমূক সম্প্রদায় এতখানি, তার চাইতে কম পাবে বা পাবেনা---এ ধরণের কথাগুলো আর বলা চলে না৷ বস্তুতঃ এ ধরণের কথায় উৎকটভাবে কায়েমী স্বার্থবাদই ফুটে ওঠে৷ এক দেশের মানুষ ভূমির অভাবে বা খাদ্যের অভাবে ক্লেশ পাক, অন্যদেশে থাকুক প্রচুর পতিত জমি বা প্রচুর খাদ্য---এ অবস্থাটাও এক ধরণের পুঁজিবাদ ছাড়া আর কী!

শান্তি

আজকের বিশ্বে শান্তি শান্তি বলে চোঁচানো একটা রীবাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কিন্তু চেঁচিয়ে কোন কাজের কাজ হবে কি?

পণ-প্রথা

পণ-প্রথা সামাজিক অবিচারের আরেকটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত! মানুষের সমাজ পুস্তকটিতে লেছি এই পণপ্রথার কারণ মুখ্যতঃ দুইটি---একটি অর্থনৈতিক ও আরেকটি নারী-পুরুষের সংখ্যাগত তারতম্য আর্থিক ব্যাপারে নারীর পুরুষনির্ভরশীলতা কমে যাবার সঙ্গে সঙ্গে পণপ্রথার উগ্রতা থাকবে না৷ কিন্তু এই কার্যকে ত্বরান্বিত করবার জন্যে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে উন্নত আদর্শবাদ প্রচারেরও প্রয়োজন রয়েছে৷ আমাদের ছেলেমেয়েরা চাল-ডাল-নুন-তেল বা গোরু-ছাগল নয় যে তাদের নিয়ে হাটে-বাজারে দর কষাকষি চলবে৷

মালিকানা

মানুষের সকল কর্মেই মানবতার স্পর্শ থাকা উচিত৷ কাউকে বঞ্চিত না করার মনোভাব যার আছে সে তাই ন্যায়তঃ ধর্মতঃ সম্পত্তির ব্যষ্টিগত মালিকানা মেনে নিতে পারে না৷ বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক কাঠামোটা কিন্তু মানবিক অধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয়৷ মানবিক অধিকারকে স্বীকার করতে হলে তাই বিপ্লবাত্মক পরিবর্তনের জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে, ও এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে হবে ভূসম্পত্তি, শিল্প, বাণিজ্য সব কিছুর সাধারণীকরণ এই বিপ্লবের একটি অতিবৃহৎ অঙ্গ৷ এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীকরণ শব্দটি আমি ইচ্ছা করেই বললুম না জমির মালিক জমিদার নয়, কারখানার মালিক তথাকথিত শিল্পপতিও নয়---একথাগুলো যতখানি সত্য, লাঙ্গল যার জমি তার, হাতুড়ী যার

সমবায়

শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য সব কিছুই যতদূর সম্ভব সমবায় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া দরকার৷ এজন্যে প্রয়োজন বোধে সমবায় সংস্থাগুলিকে বিশেষ বিশেষ ধরণের সুবিধা দিতে হবে---রক্ষাকবচের ব্যবস্থা করতে হবে ও ধীরে ধীরে বিশেষ বিশেষ ধরণের কৃষি, শিল্প বা বাণিজ্য ক্ষেত্র থেকে ব্যষ্টিগত মালিকানা বা ব্যষ্টিগত পরিচালনা-ব্যবস্থা রহিত করতে হবে৷

ট্রেড ইউনিয়ন

শ্রমজীবীর স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যে ট্রেড-ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রয়োজন অনস্বীকার্য৷ তবে এই আন্দোলন যাতে ঠিক খাতে বইতে পারে তার জন্যে উপর্যুক্ত ব্যবস্থার দরকার৷ সাধারণতঃ দেখা যায় এই আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণকারীরা শ্রমজীবীদের তাদের দাবী-দাওয়া তথা অধিকার সম্বন্ধে যতটা সচেতন করে দিতে চান সেই তুলনায় তাঁরা তাদের দায়িত্ব সম্বন্ধে সচেতন করবার কাজে কিছুই করেন না৷ এ অবস্থা দূর করবার প্রকৃষ্ট পন্থাই হচ্ছে যে শিল্প বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কর্মীদের অধিকার স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নেওয়া৷ এ ব্যাপারে কেবল আদর্শবাদ প্রচার করে গেলে বা অধিক নীতিকথা শোণাতে থাকলে বিশেষ কিছু ফল হবে না৷ ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন সমূহের