Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন

শ্রী শ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী

শাস্ত্রীয় নির্র্দেশ অনুযায়ী মানুষের উন্নতির জন্যে তিনটি তত্ত্ব আবশ্যক৷ তিনটি তত্ত্ব কী?–না, শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন৷ প্রথমে দেখা যাক্–শাস্ত্র বলতে কী ৰোঝায়? ‘‘শাসনাৎ তারয়েৎ যস্তু সঃ শাস্ত্রঃ পরিকীর্ত্তিতাঃ৷ ’’এখানে ‘শাসন’ মানে হচ্ছে–অনুশাসন৷ শাসন ও অনুশাসন একই জিনিস৷ ইংরেজীতে ‘অনুশাসন’ বলতে ৰোঝায়–Discipline, Code of discipline. কিন্তু সংস্কৃতে ‘অনুশাসন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে–‘‘হিতার্থে শাসনম্ ইতি অনুশাসনম্’’৷ যখন তুমি কারোর হিতের জন্যে শাসন কর, তখন তাকে বলা হয় অনুশাসন৷ কিন্তু যখন হিতের ভাবনা থাকবে না, তখন তাকে অনুশাসন বলব না৷ এতে শাসন থাকতে পারে, কিন্তু তাতে হিতের ভাবনা নেই–তাই তা অনুশাসন পদবাচ্য নয়৷ ‘‘হিতার্থে অর্থাৎ কল্যাণার্থে শাসনম্ ইতি অনুশাসনম্৷’’ তাহলে শাসনের দ্বারা অর্থাৎ অনুশাসনের দ্বারা যা জীবকে ত্রাণের রাস্তা দেখিয়ে দেয়, তাকেই শাস্ত্র বলে৷ শাস +  ত্রৈ + ড–প্রথমার একবচনে হয় ‘শাস্ত্র’৷

তাহলে শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন কথাটিতে শ্রবণ মানে শোণা৷ আমি আমার কাণকে এমনভাবে তৈরী করব যে কাণ সদা পরমপুরুষের কথা শুণবে৷ আর তাঁর কথা শুণলে কী হবে? পরমপুরুষের কথা যদি মানুষ শুণতে থাকে তবে সেই শব্দতরঙ্গ কাণ পর্যন্ত পৌঁছে যায়৷ কাণ থেকে স্নায়ুতন্তু ন্দ্বব্জ্লন্দ্ব ন্দ্রন্ত্ব্ব্জন্দ্বব্দগ্গ ও সেখান থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত ঙ্মত্ব্ব্জ্ত্রনু ন্তুন্দ্বপ্তপ্তব্দৰ পৌঁছে যায়৷ মস্তিষ্কে পৌঁছে গেলে, তা একইভাবে মস্তিষ্কে শব্দতরঙ্গ উৎপন্ন করে৷ আর এইভাবে তা মনেও পৌঁছে যায়৷ সেই শব্দ যখন মনে পৌঁছে যায়, মন তখন ধীরে ধীরে পরমপুরুষের দিকে চলতে শুরু করে দেয়৷ এই হ’ল শ্রবণ৷... ‘শ্রবণ’ শব্দটা রাখা হয়েছে ধর্মপ্রচারের জন্যে৷ ধর্মৈষণার জন্যে৷ বিশ্ববাসীর মনে সাত্ত্বিক ভাব জাগাবার জন্যে শ্রবণের প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি৷ তুমি যখন কীর্ত্তন কর তখন তুমিই শুধু আনন্দ পাও–তা তো হয় না৷ তোমার মুখ থেকে যে কীর্ত্তন হচ্ছে সেটা যার কানে পৌঁছচ্ছে তাদের সকলেরই প্রগতি হবে৷ তাদেরও উন্নতি হবে৷ তাদেরও কল্যাণ হবে৷ এজন্যে ‘শ্রবণ’ শব্দকে রাখা হয়েছে৷...

তুমি বলতে পার–অনেক দুষ্ট লোক আছে যারা অনেক অনুচিত কথা আমাকে বলতে পারে৷ তারা পরমপুরুষের নাম নেয় না, তারা পরমপুরুষের চর্চা করে না৷ কিন্তু তারা যদি আমাকে অনুচিত বাক্য বলে? তার জন্যেও উপায় আছে৷ কেউ অনুচিত কথা বললে তৎক্ষণাৎ গুরুমন্ত্রের ব্যবহারের দ্বারা তাকে শুভ চিন্তায়, তাঁকে পরমপুরুষের ভাবে রূপান্তরিত করে নিতে পার৷ এই জন্যে যখনই অনুচিত কথা শুণবে, মনে মনে পরমপুরুষের জপ করতে থাকবে৷ তখন ওই অশুভ শব্দ শুভ শব্দে রূপান্তরিত হয়ে যাবে৷ এই হ’ল মনন৷

‘‘মনসা সংবরো সাধু, সাধু সব্বত্থ সংবরো৷’’ এইভাবে করলে মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এসে যাবে৷ কারণ সেই অবস্থায় মন এক বিশেষ পথ (line) অনুসারে চলা শুরু করে দেয়৷ এক বিশেষ পথ ধরে চললেই তুমি মনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে৷ এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই৷

তাহলে এক শ্রবণ, দ্বিতীয় হ’ল মনন৷ ‘মনন’ মানে মনে মনে চিন্তা করা৷ মনের এটাই হ’ল প্রধান কাজ৷ আসলে মনের দু’টি কাজ আছে–এক চিন্তা করা (চিন্তন), আর দ্বিতীয় স্মরণে রাখা (Remember)৷ সুতরাং চাইলেই মন সর্বদা মনন–ক্রিয়া তথা পরমপুরুষের ধ্যানে রত থাকতে পারে৷ মনে অনেক কিছু জমা থাকে, জগতের অনেক কথা মনে জমা থেকে যায়–যা পরিণামে অনেক সমস্যা তৈরী করে দেয়৷ ধর, কারো সাথে বিশ বছর আগে ঝগড়া হয়েছিল–সেকথা মনে রাখলে কী হবে?–না, মনের শান্তি নষ্ট হয়ে যাবে৷ তা ভুলে যাওয়াই ভাল৷ ‘ক্ষমা করো ও ভুলে যাও’–এই নীতিই সবচেয়ে উপযুক্ত৷ কিন্তু যেখানে পরমাত্মা বা পরমপুরুষের নাম মনন করার ব্যাপার আছে সেখানে মনন মানে বারে বারে পরমপুরুষের কথা চিন্তা করা৷ এক্ষেত্রে স্মরণে রাখাটা ৰড় কথা নয়, বারংবার তাঁর কথা চিন্তা করাই হচ্ছে যথার্থ মনন৷

‘‘মননাৎ তারয়েৎ যস্তু সঃ মন্ত্রঃ পরিকীর্তিতঃ৷’’ যে শব্দ মনন করলে, বারবার চিন্তা করলে মানুষের মুক্তি ঘটে, তাকেই ‘মন্ত্র’ বলা হয়৷ মন  ত্র  ঘএ–প্রথমার একবচনে হয় মন্ত্র৷ পৃথিবীতে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ অগুনতি শব্দ আছে–যা মন্ত্র নয়৷ যে শব্দের মনন করলেই মন পরমপুরুষের দিকে ছন্দায়িত গতিতে চলতে শুরু করে দেয়–তাকেই মন্ত্র বলে৷ প্রত্যেক সাধকের নিজ নিজ মন্ত্র আছে, নিজ নিজ ইষ্টমন্ত্র আছে৷ গুরুমন্ত্রের দ্বারা অশুভ শব্দ শুভে পরিণত করব ও ইষ্টমন্ত্রের দ্বারা তাঁর মনন করতে করতে এগিয়ে যাব–এই হ’ল মনন৷

মনন করতে করতে কী হয়? মনের দ্বিতীয় গুণ হ’ল–মনে রাখা, স্মরণ করা (Remember)৷ মনন করতে করতে এমন হয়ে যায় যে মানুষ আর তাঁকে ভোলে না৷ যখন তুমি ঘুমিয়ে আছ, তখনও মনে বিনা চেষ্টাতেই জপ চলতে থাকে৷ যখন বিনা প্রয়াসে আপনা থেকেই জপক্রিয়া চলতে থাকে, তখন শাস্ত্রে তাকে বলা হয়–‘অজপাজপ’ বা ‘অজপাগায়ত্ত্রী’৷ অজপাগায়ত্ত্রী কী?–না, জপসিদ্ধি৷ জপে যখন সিদ্ধি এসে গেল, মনন করতে করতে যখন শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে তা (ইষ্টমন্ত্র) মনে থেকে গেল, তখন তাকে বলব–অজপাগায়ত্ত্রী, অজপাজপ৷ তারই নাম–‘ধর্মমেঘ সমাধি’৷ এই অবস্থায় সাধক কোন কিছুই ভোলে না৷

শ্রবণম্, মননম্, নিদিধ্যাসনম্৷ এই নিদিধ্যাসনম্ শব্দের অনেক অর্থ আছে৷ তবে এর একটি মুখ্য অর্থ হ’ল মনের একতানতা অর্থাৎ আমি চলছি কেবলমাত্র তাঁকে পাবার জন্যে, তাঁরই পেছনে, আমার সমস্ত ভালবাসা কেবল তাঁকে কেন্দ্র করেই৷ এখানে আছে ষোল আনা অকটপতা (sincerity), ষোল আনা আন্তরিকতা৷...

 

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
আরও

সম্পাদকীয়

নোতুন পৃথিবী গড়তে আদর্শ মানুষ চাই
অধঃপতিত সমাজ---উত্তরণের পথ কি
পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ

প্রবন্ধ শিরোনাম

তোমার আসা যাওয়া
মহানধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাদান হবে মানসিকতার ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কখনোই নয়
কৃত্রিম হিন্দী ভাষা নয় সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হোক
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি প্রাউট প্রবক্তার সতর্ক বার্তা
তোমার আসা যাওয়া
সমবায়ের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদন করে গ্রামীন বেকারত্ব দুর করা সম্ভব
কালীপূজা ও তন্ত্রসাধনা
সমাজ শাস্ত্র

পুরানো মাসিক খবর

  • June 2019 (110)
  • May 2019 (129)
  • April 2019 (111)
  • March 2019 (138)
  • February 2019 (122)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 8
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved