Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

অসমিয়া ও বাঙালী বিরোধের শিকড় সন্ধানে

হরিগোপাল দেবনাথ

পৃথিবীর বুকে গণতান্ত্রিক জগতে  বৃহত্তম আর বহুভাষিক ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বহুল-প্রচারিত  এক রাজ্য অসম৷ নদী-উপতক্যা ও অববাহিকা সমেত সমতলভূমি আবার পার্বত্য-উষরভূমিসহ উঁচু-নীচু, দুর্গম অরণ্যঘেরা, জঙ্গল-আচ্ছাদিত ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভূমি নিয়ে রাজ্যটির  ভূ-প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই নবঘটিত এ রাজ্যের  নামকরণ হয়েছিল অসম-রাজ্য৷ অবশ অনেকের  মতে  বার্র্ম থেকে আগত অহোম-দের নাম থেকে  নাকি এ রাজ্যের  এরূপ নাম  হয়ে থাকতে  পারে বলে বলা হয়  কিন্তু তা’ সঠিক নয় বলেই বিদগ্দ জনদের অভিমত৷

 যা হোক, ইংরেজরা এসে এ অঞ্চল দখলে নেবার পরে তারা এর নাম দেন ইংরেজী হরফে ফলে বাংলায় এর উচ্চারণ হয়ে দাঁড়ায় ‘অ্যাসাম’ আর এর  অধিবাসীদেরও বলা হয়ে থাকে অ্যাসামীজ বলে৷ তবে এর বিকৃত উচ্চারণে আসাম  থেকে ‘আসামী’ বলা হলে কিন্তু বাংলাভাষায় দারুণ বিপত্তি হবার সম্ভাবনা থেকে যায়৷ সুতরাং অসমকে ‘অসম’ বলাই শ্রেয়৷ তবে অসমিয়ারা যেহেতু ‘স’ -কেই ‘হ’ বলে উচ্চারণ করে থাকেন সেক্ষেত্রে আবার ‘অহমিয়া’ না হয়ে ‘অসমিয়া’ বলাই  ভাল৷

কিন্তু অসম রাজ্য আজ সত্যি আমাদের ত্রিপুরাই মতো বাঙালী জনগোষ্ঠীর  বধ্যভূমি আর এডিসির  পরিবেষ্টনী-ঘেরা কারাগারেরই মতো বাঙালীদের বধ্যভূমি ও ডিটেনশনরূপী বে-নাগরিক বানাবার জেলখানায় রূপান্তরিত হয়ে উঠেছে, ভাবতেই খারাপ লাগে৷ তবে অসমরাজ্য নিয়ে বাঙালীর বীরোদ্ধত গর্ব করার মতো যথেষ্ট কারণও রয়েছে বৈকি৷

 আমরা  জানি সবাই যে ১৯৫২ সালে পূর্ব বাঙলার ডাকা শহরে ২১ শে ফেব্রুয়ারী বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবী নিয়ে বাঙালীর য়ে রক্ত-তর্পন ঘটে গিয়েছিল তাতেই সেই মাটিতে বীজ উপ্ত হয়েছিল পরবর্তীকালের বাঙলার মুক্তি সংগ্রামের  আর তারই ফলশ্রুতি আজকের পৃথিবীতে স্বাধীনতা সার্বভৌম রাষ্ট্র লাল সবুজ পতাকায় গর্বিত বাঙলাদেশ৷ তদ্রূপ, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার দাবীতেই পৃথিবীতে বাঙালী জাতি সত্তার  দ্বিতীয়  বিশ্বখ্যাত জ্বলন্ত নজির স্থাপিত হয়েছিল ১৯৬১ সালের ১৯শে  মে দিবসটিতে--- অসমের শিলচরে তারাপুর রেলষ্টেশনে এগারোটি তাজা বাঙালী তরুণ-তরুণীর রক্ততর্পণে  যার দউলতে ওই ষ্টেশনের নাম আজ ‘একাদশ বাংলাভাষা শহীদ’ রেলওয়ে ষ্টেশন৷ বলা খুবই সঙ্গত যে, পৃথিবীতে মাতৃভাষার  স্বকীয় মর্যাদা রক্ষার দাবী নিয়ে এত বড় আত্মোৎসর্গের দু দু’টো  ঘটনাই বাঙালীজাতিকে নূতন করে  বিজয় টিকা পরিয়ে বাঙালী জাতিসত্তাকে বিশ্ববন্দিত করে তুলেছে৷

কিন্তু আজ সেই অসম ‘বাঙাল খেদাও’ আন্দোলনে মত্ত৷ পৃথিবীর সভ্যমানব সমাজে  মানবসভ্যতারই আদি পীঠস্থান ভারতবর্ষের সেই অঙ্গরাজ্য অসম যেখানে  বাঙালীদের  লাখো লাখো মানুষকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, কারো কারোর নাগরিকত্বকেও বেমালুম জবরদস্তিমূলক অস্বীকার করে, গণতন্ত্রকে পদদলিত করে, সংবিধানকেও তুচ্ছ-হেয় প্রতিপন্ন করে স্রেফ এথনিক অহংবোধের উন্মত্ততা দেখাতে ও আইডেনটিটির ঔদ্ধত্য প্রকাশের  সেন্টিমেন্টালিটিকে গর্র্বেদ্ধত প্রাধান্য দেখাতে গিয়ে  ‘ডি-বোটার’ ‘অনুপ্রবেশকারী’,‘বিদেশী’ ইত্যাদি তক্‌মা লাগিয়ে  ডিটেনশনক্যাম্পে (পড়ুন বাঙালী নিধনের খোঁয়াড়) নিক্ষেপ করা হয়েছে৷ বর্তমান পৃথিবীর আর কোথাও এ ধরনের কোন  রাষ্ট্রে কিংবা রাজ্যে  কোন জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই এমনতর জঘন্য নজীর নেই৷ আর ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিভূরাও তাদের সাম্রাজ্য-বিস্তারের মোহান্ধতায় সেই সংকীর্ণতাবাদী মানবতাদ্রোহীদেরই হুঁকোয় তামাক টানতে  গিয়ে ভারতমাতার ‘‘অহিসা পরমধর্র্ম ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’,‘সবার উপরে  মানুষ’, কিংবা  মানুষ মানুষ ভাই ভাই,--- এসব  মর্মবাণীগুলোকে ক্ষ্যাপা প্রাণীদের মতই পায়ে জড়িয়ে নিজেদের জার্সিতে শুধু কলংকের তালি বাড়াতে পেরেছেন৷

অসম সরকার ও অসমিয়া-জনগোষ্ঠীর নিন্দনীয় বাঙালী-দ্রোহীতার  আরও জ্বলন্ত দৃষ্টান্তসহ বিদ্বেষপূর্ণ কাহিনীর বর্ণনা না হয় পরে আলোচিত হবে৷  এরও পূর্বে আসুন, আমরা অসমিয়াদের এই  বাঙালী বিদ্বেষের  অন্তরালে  যে মূল কারণ বিদ্যমান রয়েছে, তারই শিকড়-সন্ধানে হাত বাড়াই৷ কিন্তু তারও  আগে কার্যকারণেই আমাদের দেখতে হবে অসম -রাজ্যটির উদ্ভাবনের ও গোড়ার কথা৷

আমরা জানি যে, পৃথিবীতেগ্রহে  গণ্ডোয়ানাল্যাণ্ডই হল প্রাচীনতম স্থূলভূমি৷ আজ থেকে  প্রায় ত্রিশকোটি  বছর পূর্বে এর সৃষ্টি৷ তখন আর্যাবত্ত তথা উত্তর ভারত, পঞ্জাব, সিন্ধু, গুজরাট , রাজস্থান, সমতট বঙ্গ-ডবাক কিছুই ছিল না৷  সেকালে হিমালয়ও ছিল না, তবে বিন্ধ্যপর্বত ছিল তারই শাখা-প্রশাখা---সহ্যাদ্রি, সাতপুরা, রামগড় ইত্যাদি তুষারাবৃত পাহাড়গুলো আর সেই পাহাড় থেকে বরফগলা জল বাহিত--- দামোদর, কংসাবতী, অজয়, দ্বারকেশ্বর, সুবর্ণরেখা, ময়ূরাক্ষী নদীসমূহ৷ উক্ত নদী সমূহের বাহিত পলি-বালি আর ক্ষয়িত পর্বতাংশ ইত্যাদি মিলে সমুদ্র গর্ভ ভরাট হয়ে গণ্ডোয়ানার পূর্বাংশে জেগে উঠল সমতলভূমি৷

প্রাউট-প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের মতে উক্ত সমতলভূমিই পৃথিবীর আদিতম মানবের আঁতুড়ঘর পরবর্তী সময়ে তখনকার অষ্ট্রিক ভাষায় তার নাম হয়েছিল--- রাঢ়, বাংলায় যার মানে হয়--- রক্তমৃত্তিকার দেশ৷ রাঢ়ের নদীবাহিত পলল থেকে আরও পরে গড়ে ওঠে পূর্বরাঢ়৷                      ( ক্রমশঃ)

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • April 2022 (168)
  • March 2022 (79)
  • February 2022 (385)
  • January 2022 (43)
  • November 2021 (121)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 2
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved