Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

দর্শনের বাস্তবতা ও বিভ্রম

খগেন্দ্রচন্দ্র দাস

আইন আদালতে একটি শব্দবন্ধ প্রায়শই ব্যবহার হয়---‘‘দৃষ্টত’’ (Prima facie)৷ অর্থাৎ যে কোন ঘটনা  চুরি, ডাকাতি, দুর্ঘটনা ইত্যাদি প্রত্যক্ষ করে প্রাথমিকভাবে যে ধারণা গড়ে ওঠে তাকেই বলা হয় প্রাইমাফেসি৷ এই ‘প্রাইমাফেসি’ প্রায়শই পরবর্তী সময়ে ধোপে টেকে না৷ যেমন ধরুন বাজার থেকে ফল বা শব্জি কেনার সময় কোন কোন ফল বা শব্জির গায়ে পচনের দাগ দেখতে পাওয়া যায়৷  আমরা ও নিয়ে বিশেষ ভাবনাচিন্তা করি না, পচা অংশটুকু কেটে বাদ দিয়ে খেয়ে নিই৷ আসলে কিন্তু পচন সবটুকুতেই ধরেছে অধিকতর পচা অংশটুকু দেখা যাচ্ছে মাত্র বাস্তবে কিন্তু পচনের বৃহৎ অংশ রয়ে গেছে আমাদের দৃষ্টির অগোচরে৷ অথবা ধরা যাক, দুটো রেলগাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ যা দেখে  পথচারী বা কোন সাধারণ মানুষের প্রাথমিক ধারণা হয় নিশ্চয় চালকের কোথাও ভুল হয়েছে৷ কিন্তু তদন্তের পর দেখা গেল যে না এই দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি চালকদ্বয় দায়ি নন, প্রকৃত দোষী দুই দিকের দুই ষ্টেশন মাস্টার অথবা অন্য কোন যান্ত্রিক গোলযোগ থেকে এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত৷ যে  কোন বিষয়েই প্রকৃত তথ্য বা সত্য সামনে আসতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়৷

১৯১২ সনের ১২ এপ্রিলের রাতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জলযান টাইটানিক জাহাজ একটি বরফের পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়৷ যে জাহাজ কখনোই ডোবার কথা নয় সেটিই এভাবে ডুবে গেল প্রাথমিকভাবে সবাই ধরে নিলেন যে ওই একখণ্ড বরফই সেই ভয়াবহ দুঘর্টনার কারণ৷ কিন্তু না, পেছনে আরও অনেকগুলো কারণ ছিল৷  যেমন ওটা কোন সাধারণ বরফের খণ্ড নয়, ওটা ছিল জলের তলায় লুকনো এক বিশালাকৃতির বরফের পাহাড়৷ অন্য কারণগুলি যথাক্রমে--- সে রাতে আবহাওয়া ছিল দুর্র্যেগপূর্ণ, দূর পর্যন্ত দেখার জন্য  নাবিকদের কাছে যথেষ্ট বাইনোকুলার ছিল না,  বরফের পাহাড় চোখে পড়া মাত্রেই নাবিক দ্রুত দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন৷ এত বড় একটা দুর্ঘটনার পেছনে এতগুলো কারণ জড়িয়ে ছিল৷

আসুন আরও কিছুটা বৃহত্তর ক্ষেত্রের দিকে দৃষ্টি ফেরাই৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ৷ ভয়ঙ্কর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য সমালোচকগণ পাঁচটি কারণকে দায়ি করেন৷ (এক) ভার্র্সই চুক্তি এই চুক্তি ১৯১৯ সনে সম্পাদিত হয় ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে৷ আর এই চুক্তিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমস্ত দায় চাপানো হয় জার্মানির কাঁধে৷ (দুই) ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা৷ ১৯২৯ সন থেকে ১৯৩৯ সনের মধ্যে পৃথিবী জুড়ে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল৷ (তিন) উগ্র জাতীয়তাবাদী নীতি৷ (চার) হিটলারের অভিলাষ৷ (পাঁচ) লীগ অব নেশনসের ব্যর্থতা৷ এখানে আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়---হিটলার ও তার উগ্র জাতিয়তাবদী অভিলাষ, যা নিয়ে আমরা আলোচনা করব৷

হিটলারের উগ্র জাতীয়তাবাদ বুঝতে আমাদের একটু পিছিয়ে উনবিংশ শতাব্দীতে যেতে হবে ১৮৪৪ খ্রীষ্টাব্দে জন্ম হয় বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক ফ্রেডরিখ উইলহেল্ম নিৎসের৷ এই নিৎসেকেই বলা হয় হিটলারের আধ্যাত্মিক গুরু৷ নিৎসে মনে করতেন, পরিবর্তনশীল জগতে কোন কিছুই স্থায়ী নয়৷ নৈতিকতার চিরন্তন মাপকাঠি বলে কিছু হয় না৷ আজ যা সত্য কাল তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হতে পারে৷ এসব কথা আপাতত সঠিক বলেই মনে হয়৷ কিন্তু  এরপর তিনি যা বললেন তা আমাদের বুকে কাপুনি ধরিয়ে দেয়, তাঁকে বলতে শুনি ‘‘বিবেক, অপরাধ ইত্যাদি শব্দের কোন তাৎপর্য নেই৷’’ শুধু তাই নয় ‘‘এইসব শব্দ মানবীয় প্রবৃত্তিকে দমন করে রাখে৷’’ আমরা ভারতবর্ষের মানুষ বিবেকহীন মানুসের কথা ভাবতেই পারি না৷ অবশ্য বিবেককে অস্বীকার করলেও তিনি কিন্তু মানুষ প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্য দিয়ে চলবে এমনটা প্রত্যাশা করেছিলেন৷

তাঁর লেখা একটি বই Thus Spoke Zarathustra’৷ সেখানে তিনি এক অভিনব সুপারম্যান বা অতিমানব তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেছেন৷ তিনি আশা করেছেন যে, এই সুপারম্যান বা  অতিমানবেরা লৌহহস্তে দেশ শাসন করবেন৷ তিনি ‘সারভাইবাল অব্‌ দ্য ফিটেষ্ট অর্থাৎ, বীরভোগ্যা বসুন্ধরা নীতিতে বিশ্বাস করেই এমন উক্তি করেছেন৷ হিটলার ছিলেন নীৎসের দর্শন চিন্তার ফসল৷ এক কথায় নিৎসে ছিলেন হিটলারের স্পিরিচুয়াল গড ফাদার বা আধ্যাত্মিক গুরু৷ কঠোর হাতে দেশ শাসন করা অর্থে নিৎসে কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে চার থেকে পাঁচ কোটি মানুষকে মেরে ফেলার  কথা বলেন নি৷ নিৎসে আসলে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন এর কথাই বোঝাতে চেয়েছিলেন৷ হিটলার জার্র্মন জাতির মধ্যে এমন এক ধারণার জন্ম দিলেন যে তারাই শ্রেষ্ঠ আর্য জাতি৷ নিৎসের দর্শনের অপব্যাখ্যা হিটলারের মনে জন্ম দিয়েছিল এই আত্মনিম্ভরিতার, শেষ পর্যন্ত যা কোটি কোটি  মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল৷

কোন একটি দর্শন রচনার দিক থেকে নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন, সেই দর্শনের অনুগামীদের সেটা সঠিকভাবে উপলব্ধি করাটাও ততটাই বাঞ্ছনীয়৷ একটি দর্শন কতটা মানবকল্যাণ করতে পারবে তা নির্ভর করছে উপযুক্ত দুটি বিষয়ের ওপর৷ নিৎসের দর্শনে কিছু অপূর্ণতা থাকলেও সেটা অতটা বিধবংসী হত না যদি না তার অপপ্রয়োগ হত৷

ভারতীয় আস্তিক্য দর্শনসমূহের বৈশিষ্ট্য ও সাযূজ্য, এই যে এখানে যুক্তি সহকারে ঈশ্বরের উপস্থিতি স্বীকার করা হয়েছে৷ যা নেতাকে হিটলার হওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবেই৷ যদি না কেউ অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগের চেষ্টা করেন৷ আসুন দেখে নিই প্রাচ্য দর্শন সম্পর্কে আমাদের এই আত্মপ্রত্যয়ের উৎস কী? এ বিষয়ে আমরা দুটি উদাহরণ উদ্ধৃত করেছি৷ ধাতুখণ্ড বা উদ্ভিদের মধ্যে প্রাণের অতিসূক্ষ্ম সাড়ায় সূচিত হয় মনের যে আভাস, সে যেমন পর্বে-পর্বে তরঙ্গায়িত হয়ে অবশেষে মানুষের মধ্যে ফুটে ওঠে পরিপূর্ণ মহিমায়, তেমনি মানুষের নিজের মধ্যেও আছে এক উত্তরায়ণের প্রবৃত্তি---দিব্যজীবনের দিকে, তার বর্তমান জীবন যার প্রবেশক মাত্র৷ পশুর প্রাণের বীক্ষণাগারে প্রকৃতি যদি মানুষ গড়ে থাকে যুগযুগান্তের সাধনায়, তাহলে মানুষের প্রাণ-মনের বীক্ষণাগারে তার সচেতন সহযোগিতায় সে যে অতিমানব বা দেবতা গড়বার সাধনা করছে না তাই-বা কে বলতে পারে? শুধু দেবতাই -বা কেন, এও কি বলা যায় না যে, মর্ত্য আধারে দিব্য-পুরুষকে মূর্ত করবার তপস্যাই তার চলছে এখানে৷’’ (দিব্য-জীবন শ্রীরবিন্দ পৃঃ-৪) শ্রী অরবিন্দ-র অতিমানব  ও নিৎসের অতিমানবে বাস্তবে কোন পার্থক্য নেই, পার্থক্য দেখা দিয়েছে প্রয়োগে বা  অপপ্রয়োগে৷ শ্রী অরবিন্দ-র এই বই প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৮ সনে তার ঠিক সাত বছর পর ১৯৫৫ সনে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী আরও প্রাঞ্জল ভাষায় বললেন---‘‘মানুষ তুমি ওঁঙ্কারের পথ ধরে সূক্ষ্মত্বের দিকে এগিয়ে চল৷ ছুটো না তুমি আপাতমধুর তমোগুণী মরীচিকার দিকে৷ সত্ত্বগুণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারপর ব্রহ্মত্বে লীণ হও৷ ওঁঙ্কার যেখান থেকে এসেছে সেখানে গিয়ে পৌঁছাও৷ সাধনায়, নিষ্ঠায় জাগিয়ে তোল নিজের সুপ্ত মনুষ্যত্বকে--- উদ্বোধন করো দেবত্বের মনীষাকে, আর সেই সাধনালব্ধ শুচিশুভ্র দেবত্বকে বিলিয়ে দাও ব্রহ্মী মহিমার অখণ্ড স্রোতে৷ অর্জন কর সেই পরমাস্থিতি যার জন্যে অনাদিকাল থেকে তুমি অনেক কষ্টে এগিয়ে এসে আজ নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দেবার সুযোগ পেয়েছ৷’’ (সুভাষিত সংগ্রহ,১ম,২য়,৩য় খণ্ড একত্রে, পৃঃ১৯) এত দ্বার্থহীন ভাষায় বলার পরেও যদি প্রায়োগিক ত্রুটির জন্য ব্যর্থতাকে আলিঙ্গন করতে হয় তবে সে দায়ভার দর্শনের স্রষ্ঠার নয়, প্রয়োগকারীদের স্বীকার করতেই হবে৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • April 2022 (168)
  • March 2022 (79)
  • February 2022 (385)
  • January 2022 (43)
  • November 2021 (121)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 2
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved