সংবাদ দর্পণ

অগ্ণিগর্ভ অসম - অসম ভেঙ্গে  কি আবার নূতন রাজ্য সৃষ্টির পথে?

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

স্বাধীনতার সময় থেকেই দেখা গেছে উগ্র অসমীয়া জাতীবাদীরা কট্টোর বাঙালী বিদ্বেষী৷ যদিও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে ও স্বাধীনতার পর হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে পূর্বতন বাঙলার বৃহদংশকে বাঙলা থেকে কেটে অসমের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হয়েছে৷ অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈ এক জনসভায় প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, অসম শুধু অসমীয়াদের জন্যে৷ সেই অনুসারে স্বাধীনতার পর তথা পঞ্চাশের দশক থেকেই অসমে চলছিল ‘বঙ্গাল খেদা’ আন্দোলন৷ তখন থেকে বাঙালীদের ওপর বার বার আক্রমণ ও নির্যাতন নেমে আসে৷ এর চরম বীভৎসরূপ দেখা যায় ১৯৮৩ সালে কুখ্যাত ‘নেলী গণহত্যা’র সময়, যখন প্রায় ১০ হাজার বাঙালী নিহত হয়েছিল৷ তারপর অসমের সেই খুনী জঙ্গী বাঙালী বিদ্বেষী ‘অগপ’ দলের সঙ্গেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিদেশী বিতাড়ন চুক্তি হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চকে ভিত্তি বছর করে৷ এই বিদেশী বিতাড়ন চুক্তি যে আসলে বাঙালী বিতাড়ন চুক্তি তা বর্তমান ঘটনায় অত্যন্ত পরিষ্কার৷

বর্তমানে অসমের বহু বাঙালী এন.আর.সি কর্তৃপক্ষের কাছে ১৯৫১ সাল থেকে অসমে থাকার নথিপত্র দাখিল করার পরও চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি থেকে তাদের নাম বাদ গেছে৷ যেমন অসমের বঙ্গাইগাঁওদের বাসিন্দা বিকাশ দাস বলেন, তাঁরা স্বাধীনতার পর থেকেই যে এখানে বসবাস করছেন তার নথিপত্র জমা দিয়েও নাগরিকপঞ্জিতে তাদের নাম ওঠেনি৷

অসমের অপর এক বাসিন্দা মুকুল মিত্র বলেন, তিনি ১৯৫১ সালের নথি জমা দিয়েছেন তবু এ নাগরিকপঞ্জিতে তাঁর নাম ওঠেনি৷ অসমের বাসিন্দা পুকেন দাসও বলেন, তাঁদের সমস্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের পরিবারের ১৮ জন সদস্যের নাম নাগরিকপঞ্জির তালিকাভুক্ত হয়নি৷

এমনিভাবে প্রায় ৪০ লক্ষ বাঙালী এখানকার বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভবিষ্যৎ যে কী হবে--- তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন৷

গোয়ালপাড়া থেকে লামডিং, কাছাড়--- এই সমস্ত অরিজিন্যাল বাংলা ভাষী এলাকাতে বাঙালীরা বিশেষ করে যাদের নাগরিকপঞ্জিতে নাম ওঠেনি , তাদের মধ্যে চরম বিক্ষোভ বারুদের স্তুপের মত জমা হচ্ছে৷ যে কোনো মুহূর্তে প্রচণ্ড বিষ্ফোরণ ঘটতে পারে৷

এইভাবে বাঙালী বিদ্বেষী অসমীয়ারা অসমকে গৃহযুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে৷ এর আগে উগ্রপন্থী অসমীয়াদের জন্যেই আগেকার অসম টুকরো টুকরো হয়ে মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর, অরুণাচল প্রভৃতি সব আলাদা রাজ্য সৃষ্টি হয়েছে৷ এখনও কি আবার অসম ভাঙ্গতে চলেছে? এই সমস্ত এলাকায় ভাল করে কান পাতলে এই আশংকার কথা শোনা যায়৷

উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাঝেরহাটে আবার সেতুভঙ্গ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়
মাঝেরহাত সেতু

কলকাতা ঃ গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ বিকট শব্দে চারদিক কাঁপিয়ে যানবাহন নিয়ে ধসে পড়ল মাঝেরহাট সেতু৷ ব্রীজের ওপর তখন ছিল একটি চার চাকা গাড়ী, একটি মিনিবাস ও কয়েকটি মোটর সাইকেল৷ ব্রীজের নীচেও কয়েকজন চাপা পড়ে গেছে৷ দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আহত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ তার মধ্যে ১ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ বাকীদের চিকিৎসা চলছে৷ ২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে৷ এর আগে এ রাজ্যে ২০১৩ সালের ৩রা মার্চ উল্টাডাঙ্গা ফ্লাই ওভার ভেঙ্গে পড়েছিল, তখন কেউ হতাহত হয়নি৷ ২০১৩ সালের ৩১শে মার্চ কলকাতার পোস্তায় নির্মিয়মান ফ্লাইওভার ভেঙ্গে পড়েছিল৷ সেই সময় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল৷ এর পরেই মাঝেরহাটে যে সেতু ভেঙ্গে পড়ল এর নীচে একটা ঝুপড়ি ছিল৷ সেখানেও জনা পাঁচ শ্রমিক ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে৷ কিন্তু তাদের এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি৷ তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে৷

প্রায় ৫০ বছরের বেশী পুরানো সেতুটির ২০ মিটারের কিছু বেশী অংশ যেভাবে বাস, বাইক প্রভৃতি নিয়ে ভেঙ্গে পড়েছে, তাতে অনেক বেশী হতাহত হতে পারত৷ কিন্তু আপাতত একজনেরই এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে৷ ব্রীজের তলায় যারা আছে তাদের কী অবস্থা ওখানে ক’জন চাপা পড়ে আছে পরদিন দুপুর পর্যন্ত উদ্ধারকারী দমকল বাহিনী বা সেনারা জানতে পারেনি৷

দমকল অফিসাররা জানাচ্ছেন, ব্রীজের নীচে চাপা পড়ে থাকা মানুষের গলার স্বর পাওয়া গেছে৷ স্তুপীকৃত চাঙড় ছিত্র করে ওর মধ্যে দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে নীচে কেউ চাপা পড়ে থাকলে তিনি অক্সিজেন পান৷ দমকল বাহিনী প্রাণপণে চেষ্টা চালাচ্ছে চাপা পড়া হতভাগ্যদের উদ্ধার করতে৷

পোস্তার বিবেকানন্দ উড়াল পুল ভাঙ্গবার পর কলকাতা ও শহরতলীর সমস্ত সেতুগুলি উপযুক্ত সংরক্ষণের দাবী উঠেছিল৷ সরকার সেইমত সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশও দিয়েছিলেন কিন্তু যেভাবে কাজ হওয়া উচিত ছিল সেভাবে কাজ হয়নি৷ তাই আবার এক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হ’ল৷ কলকাতার ও শহরতলীর আরও বহু সেতুর অবস্থাই কিন্তু সঙ্কটজনক৷

কেরালায় আনন্দমার্গ ইয়ূনিবার্সাল রিলিফ টিমের ত্রাণকার্য

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কেরালআয় বন্যাত্রাণপি.এন.এ ঃ আনন্দমার্গে ইয়ূনিবার্সাল রিলিফ টিম, সংক্ষেপে এ্যামার্ট AMURT)-এর স্বেচ্ছাসেবীরা কেরালায় ব্যাপকভাবে বন্যাত্রাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন৷ কেরালা সরকারও আনন্দমার্গের ত্রাণকর্মীদের এ ব্যাপারে সমস্ত প্রকারের সহযোগিতা করে চলেছেন৷ কেরালার বিভিন্ন বন্যা প্লাবিত এলাকায় এ্যামার্ট কর্মীরা ইতস্ততঃ ছড়ানো মৃত গলিত পশুদেহ পরিষ্কার করা ও বিধবস্ত ঘরবাড়ীর ধবংসস্তুপ পরিষ্কার করার কাজ করে চলেছেন৷ সরকার থেকে তাঁদের সবরকমের সাহায্য করা হচ্ছে৷ ঘরবাড়ীর ধবংসস্তুপ পরিষ্কার করতে সরকার থেকে তাঁদের ক্রেন দিয়েও সাহায্য করা হচ্ছে৷

এ্যামার্টের এই ত্রাণ ও সাফাই কার্য পরিচালনা করছেন আচার্য উদ্ভাসানন্দ অবধূত, আচার্য অরিন্দমানন্দ অবধূত, আচার্য উদিতানন্দ অবধূত, আচার্য দিবাকরানন্দ অবধূত, আচার্য মানসরঞ্জনানন্দ অবধূত, আচার্য স্বরূপ ব্রহ্মচারী, আচার্য সত্যবোধানন্দ অবধূত প্রমুখ৷

অন্যদিকে আনন্দমার্গ ইয়ূনিবার্সাল রিলিফ টিমের মহিলা বিভাগ (AMURTEL)-এর পক্ষ থেকে দুর্গতদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র, থালা, বাসন, বালতি প্রভৃতি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে৷ আজই দুর্গত পরিবারদের মধ্যে ২০০ বালতি বিতরণের সংবাদ এসেছে৷

এ্যামার্টেলের পক্ষ থেকে বন্যাত্রাণ কার্য পরিচালনা করছেন অবধূতিকা আনন্দমুক্তিধারা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দবীতরাগা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দকর্ণিকা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দসত্যনিষ্ঠা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দসরিতা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দভাবাতীতা আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দসুধীরা আচার্যা প্রমুখ৷

আনন্দমার্গ রিলিফ টীমের পক্ষ থেকে কেরালা বন্যা দুর্গতদের মধ্যে সব রকমের সেবাকার্য অব্যাহত রাখতে আনন্দমার্গের বিভিন্ন ইয়ূনিট ও সমস্ত সহৃদয় মানুষদের আনন্দমার্গের ত্রাণ তহবিলে সাহায্য পাঠানোর জন্যে আনন্দমার্গের জেনারেল সেক্রেটারীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে৷

সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদ, ত্রিপুরায় আনন্দমার্গের বিশালগড় ইয়ূনিট থেকে কেরালায় আনন্দমার্গের ত্রাণ তহবিলের জন্যে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে৷ যাঁরা আনন্দমার্গের ত্রাণ তহবিলে সাহায্য পাঠাতে চান তাঁদের জন্যে নিম্নে আনন্দমার্গ রিলিফ টিমের এ্যাকাউণ্ট নম্বর দেওয়া হ’ল ঃ

Ananda Marga Pracaraka Samgha

IFSC UCBA0000875

UCO BANK

KOVILAKAM  ROAD

THRISSHUR

Kerala

(যোগাযোগের জন্যে---জেনারেল সেক্রেটারী, আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘ

ফোন / হোয়াটস্যাপ—8777791006

‘আমরা বাঙালী’র রাখীবন্ধন  উৎসব  ও এন. আর. সির  প্রতিবাদে  সভা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

বিপুল উৎসাহ ও  উদ্দীপনায়  গত ২৬শে  অগাষ্ট রাখী পূর্ণিমা  উপলক্ষ্যে ‘আমরা বাঙালী’ দক্ষিণ  কলকাতা শাখার  উদ্যোগে  রাখীপূর্ণিমা  উৎসব  পালনের মাধ্যমে একটি সম্প্রীতির  বার্র্ত দিয়ে  বেহালা  সখের বাজার  অঞ্চলে  পথচারীদের  হাতে রাখী  পরিয়ে দেন সংঘটনের  সদস্য-সদস্যাবৃন্দ৷এরপরই  সদস্য-সদস্যাবৃন্দ অসমে  এন.আর.সির- নামে  বাঙালীদের  বিদেশী চিহ্ণিত  করার  প্রতিবাদে  জনসভা করেন৷

জনসভায়  বক্তব্য  রাখেন  আমরা বাঙালীর  কলকাতা জেলা সচিব  হিতাংশু  ব্যানার্জী , সুনীল  চক্রবর্তী , সুধীর গুপ্ত, অরূপ মজুমদার, বাপী পাল, জ্যোতিবিকাশ সিন্হা, শৈলেন  মোদক প্রমুখ৷ সভার  শুরুতে  স্পান্দনিক শিল্পগোষ্ঠীর  পক্ষে  সংগীত  পরিবেশন  করেন শঙ্কর সরকার, স্বাগতা ব্যানার্জী ও হিতাংশু ব্যানার্জী৷ সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির  সদস্য শ্রী জয়ন্ত দাস৷

অসমে  এন.আর.সি-র  প্রতিবাদে  বিভিন্নস্থানে  ‘আমরা বাঙালী’র  প্রতিবাদ  সভা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

বনগাঁ, বাগদা ব্লক ঃ  বনগাঁর বাগদা ব্লকের ট্যাংরা  কলোনি বাজারে  গত ২১ অগাষ্ট ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে  বিকাল ৪টা থেকে ৮ টা  পর্যন্ত  একটি প্রকাশ্য সভার  আয়োজন  করা হয়৷ অসম থেকে বাঙালী বিতাড়নের  প্রতিবাদে  জোরালো  বক্তব্য  রাখেন, ‘আমরা বাঙালী’র  উত্তর ২৪ পরগণার জেলা-সচিব  দীপঙ্কর  মণ্ডল,  অরুপ মজুমদার, বাপী পাল, বিশ্বেশ্বর  মন্ডল, অসীম বিশ্বাস  ও কেন্দ্রীয় কমিটির  সদস্য শ্রী জয়ন্ত  দাস প্রমুখ৷

রামচন্দ্রপুর ঃ গত ২২শে অগাষ্ট  বিকেল ৫ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত  উত্তর ২৪ পরগণা জেলার  রামচন্দ্রপুরে  অসম সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে  বাঙালী  বিতাড়নের  প্রতিবাদে  একটি প্রতিবাদ  সভার আয়োজন করা হয় ‘আমরা বাঙালী’র  পক্ষ থেকে৷  এই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির  সদস্য জয়ন্ত দাস, বিকাশ  বিশ্বাস, অরুপ  মজুমদার,  বিশ্বেশ্বর মন্ডল, অসীম বিশ্বাস, নমিতা দেবী  ও বাপী পাল৷  তাঁরা বলেন অবিলম্বে  কেন্দ্রীয়  সরকারকে এন.আর.সি  বাতিল করে  বাঙালীদের  নিরাপত্তা দিতে হবে৷

গোপালনগর ঃ গত ২৩ শে অগাষ্ট অনুরূপভাবে গোপালনগরেও  একটি প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয়৷ এই সভাতে বক্তব্য রাখেন ‘আমরা বাঙালী’র সদস্যবৃন্দ৷  তাঁরা বলেন  দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের  খেয়াল খুশীর শিকার  হতে হচ্ছে  বাঙালী জনগোষ্ঠীকে৷  বর্তমানে অন্যায়ভাবে  এন.আর.সি  প্রয়োগ করে  অসম সহ  উত্তরপূর্ব ভারত থেকে  বাঙালী  বিতাড়ন চলছে৷ এর ওপর জোরালো  বক্তব্য রাখেন ও প্রতিবাদ  জানান সংঘটনের  সদস্য--- বাপী পাল, বিকাশ বিশ্বাস, অরুপ মজুমদার, শ্যামল বিশ্বাস, জয়ন্ত দাস  প্রমুখ৷

প্রধানমন্ত্রী মোদিকে  হত্যার ষড়যন্ত্রের  অভিযোগে পাঁচ বিশিষ্ট সমাজকর্মীকে গ্রেফ্তার, পরে গৃহবন্দী

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদিকে  হত্যার  ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে  গত ২৮শে  আগষ্ট পাঁচটি  রাজ্যে পুলিশ  তল্লাশী চালিয়ে  হায়দ্রাবাদ থেকে  কবি সাহিত্যিক  ভি.ভি. রাও,  দিল্লি থেকে গৌতম  নওলাখা , থানে  থেকে অরুণ ফেরেইরা, মুম্বাই থেকে ভার্ণিন গণসালভেজ ও ফরিদাবাদ থেকে  মানবধিকার  আইনজীবী সুধা  ভরদ্বাজকে  গ্রেফতার  করে৷ এঁরা  সবাই  সমাজকর্মীরূপে  পরিচিত৷ পুলিশ জানাচ্ছে নির্দিষ্ট তথ্যের  ভিত্তিতেই  তাদের এই তল্লাসী ও গ্রেফতার৷

আট মাস  আগের  ‘মোদি হত্যার ছক’ নিয়ে একটি  বেনামী চিঠির ভিত্তিতে  কেন্দ্রের এই তৎপরতা৷ কিন্তু  এতমাস পরে পুলিশের এই তৎপরতা  কেন?  পুলিশ  জানিয়েছে, নির্দিষ্ট  তথ্যের ভিত্তিতেই এই তৎপরতা৷

গ্রেফতার  হওয়া সবাই  বাম মনোভাবাপন্ন ও মাও সমর্থনকারী  বলে অভিযোগ৷ স্বাভাবিকভাবে এঁদের গ্রেফ্তারের প্রতিবাদে বুদ্ধিজীবী মহল এগিয়ে আসেন৷ ধৃতদের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন বিভিন্ন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী৷ ধৃতদের হয়ে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী মনু সিঙ্ঘভি৷ তাঁর বক্তব্য ছিল, যে অভিযোগে ওই পাঁচজন সমাজকর্মীকে গ্রেফ্তার করা হয়েছে, এফ.আই.আর-এ তাঁদের নামই ছিল না৷ যেভাবে ওঁদের গ্রেফ্তার করা হয়েছে তাতে গণতন্ত্র ধবংস হয়ে যেতে পারে৷ প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র তাঁর রায়ে বলেন, ওই পাঁচজন বুদ্ধিজীবীকে ৬ই সেপ্ঢেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানী পর্যন্ত গৃহবন্দী করা হোক৷ পুলিশী হেফাজত নয়৷

পঞ্চায়েত বোর্ড তৈরীকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২৮শে অগাষ্ট পঞ্চায়েত বোর্ড তৈরীকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও গুলি চালনাও হয়েছে৷ দেখা যাচ্ছে জনসেবা ভাবনা ভুলে  ক্ষমতা দখলটাই সব দলগুলির মুখ্য লক্ষ্য৷ এই উদ্দেশ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংঘর্ষ দেখা দিচ্ছে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি’র৷ কোথায় বা তৃণমূল সিপিএম, কোথাও  বা তৃণমূল -কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ৷ উত্তর ২৪ পরগণায় বহিস গাজি গ্রামে তৃণমূল-সিপিএম সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়৷ ২জন তৃণমূল কর্মী ও ১ জন সিপিএম কর্মী৷ এই সংঘর্ষে বোমা গুলি সবই চলতে থাকে৷ আমডাঙ্গা ব্লক পঞ্চায়েতে বোর্ড তৈরীকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষ৷

ঝাড়গ্রাম থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়, তৃণমূল নেতা চন্দন ষড়ঙ্গীর (৫৫) গলাকাটা দেহ রাস্তায় পাওয়া যায়৷ অভিযোগ বিজেপি’র কর্মীরা ঝাড়খণ্ড থেকে এসে চন্দনকে খুন করে গেছে৷

উত্তরদিনাজপুরে ইটাহারে তৃণমূল-বিজেপি’র মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষও বোমাবাজির ফলে উভয় পক্ষের ৩০ জন জখম হয়৷ ৬ জন পুলিশ ও জখম হয়৷ চোপড়াতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে গুলি ও বোমাবাজিতে এখানে ৬ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে৷

অসমে এন আর সি  কর্তৃপক্ষের  বিরুদ্ধে  বিধায়কের  মামলার সিদ্ধান্ত

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

শিলচর ঃ অসমে  ‘এন.আর.সি’-র  নাম করে  এখানকার  শাসক বিজেপি   দল  ও অসম গণ পরিষদের ছাত্র সংঘটন আসু অসম  থেকে যেন তেন প্রকারেণ বাঙালী তাড়াবার  ষড়যন্ত্রে  মেতে  উঠেছে৷ অসমে নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত  খসড়া তালিকা  প্রকাশিত  হওয়ার  পরও  প্রায়  ৪০ লক্ষ  মানুষের  নাম তালিকাভুক্ত হয়নি৷  এরা বেশিরভাগই  বাঙালী ও অসমের  স্থায়ী  বাসিন্দা৷ প্রকৃতপক্ষে ব্রিটিশ রাজত্বের সময় বাঙলার  বিস্তীর্ণ এলাকা  যেমন  কাছাড়,  নওগাঁ, লামডিং, বরপেটা, গোয়ালপাড়া  এই সমস্ত  বাঙলারাই অংশ  অসম  প্রদেশের  সঙ্গে  যুক্ত করা হয়েছে৷ তাই  এদের  নাগরিকত্ব প্রশ্ণাতীত৷  আর স্বাধীনতার বলি হিসেবে যারা  আগেকার  পূর্ব বাঙলা  (বর্তমান  বাঙলাদেশ) থেকে এপারে উদ্বাস্তু হয়ে এসেছে তাদেরও  নাগরিকত্ব নিয়েও কোনো  প্রশ্ণ থাকতে পারে না---কারণ ভারত সরকার তাদেরও নাগরিকত্ব দানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ আর তাছাড়া তারা যে উদ্বাস্তু হয়ে এসেছে --- তা তো  ভারতের  নেতাদেরই  কারণে৷  এ সত্ত্বেও অসমের  উগ্র অহমিয়া  জাতীবাদীরা  বাঙালীদের  তাড়াবার জন্যে  নানান্ কৌশল ফাঁদছে৷

অসমের নাগরিকপঞ্জীতে নাম ওঠানোর জন্যে  সরকারের নির্দেশ মত  এখানকার বাসীন্দা হিসেবে পুরোনো নথিপত্র, বংশবৃক্ষ  প্রভৃতি  জমা দেওয়ার  পরও নাগরিকপঞ্জীতে  যাদের  নাম  আসেনি,  কোর্টের  নির্দেশ  অনুসারে  তাঁরা পুনরায়  এন.আর.সি সেবা কেন্দ্রে  গিয়ে  সমস্ত নথিপত্র জমা  দিয়েও  তাদের নাম বাদ দেওয়ার কারণ  জিজ্ঞাসা করতে গেলে  তারা কোনো  কারণ  বলছে না, অযথা  হেনস্থা  করছে৷

কাউকে বা বলা হচ্ছে  ডি-ভোটার  (ডিফেক্টিভ্ ভোটার) হওয়ার  জন্যে  নাগরিকপঞ্জী থেকে নাম বাদ  গেছে৷  তাদের  প্রশ্ণ  কী করে তারা  ডি-ভোটার  হ’ল?  আগে  তারা  ভোট  দিয়েছে৷ আর নির্বাচন  কমিশন  থেকে  তাদের  বিরুদ্ধে  কোনো  নোটিশও আসেনি৷ নিয়ম অনুসারে,  এক্ষেত্রে নির্বাচন  কমিশন  আগে  নোটিশ দেবে,  নাগরিকত্ত্ব সংক্রান্ত  নথিপত্র  দেখতে  চাইবে, তারপর  ওই নথিপত্র দেখাতে  না পারলে  ডি-ভোটার  হিসেবে ঘোষণার  প্রশ্ণ উঠে৷

এক্ষেত্রে  নির্বাচন  কমিশনের  কোনো নোটিশই  আসেনি৷ তাহলে  ডি-ভোটার  কেন? কোনো  উত্তর নেই, করিমগঞ্জ  এলাকায়  নাম বাদ  পড়া  ওইসব  বাঙালীরা  করিমগঞ্জের  বিধায়ক  কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের  শরণ নিয়েছেন ৷  বিধায়ক  কমলাক্ষ পুরকায়স্থ  বলেন, আমার  দৃঢ় বিশ্বাস বাঙালীদের  না জানিয়ে  ইচ্ছাকৃতভাবে  ডি-ভোটার  করা  হচ্ছে৷ এর পেছনে  এন.আর.সি কর্তৃপক্ষের  গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক কমলাক্ষ পুরকায়স্থ এন.আর.সি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে  আদালতে  মামলা  করার  সিদ্ধান্ত  নিয়েছেন৷

এদিকে যে সমস্ত  বাঙালী তাদের  নথিপত্র  জমা দিয়ে নাগরিকপঞ্জীতে  নাম তুলতে  পেরেছেন,  তাদের পুনরায় নাগরিকত্ব  প্রমাণের  জন্যে  অগ্ণিপরীক্ষা মুখে  ঠেলে  দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷  এ ব্যাপারে  আসুও বিজেপি  সমনিত  কিছু উগ্র অসমিয়া সংঘটন নোতুন  করে প্যাঁচ  কষছে বলে  খবর  পাওয়া  যাচ্ছে৷ তারা  নাগরিকপঞ্জীতে নাম  ওঠা বাঙালীদের বিরুদ্ধে  ভুয়ো  নথিপত্র জমা  দেওয়ার  অভিযোগ  তোলার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে৷ এই কারণে  নাগরিকপঞ্জীতে নাম ওঠা বাঙালীরাও বর্তমানে নানান্ আশঙ্কায় ভুগছেন৷

দক্ষিণবঙ্গে ভূমিকম্প

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ২৮শে আগষ্ট মঙ্গলবার , সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগাদ  দক্ষিণবঙ্গের  কলকাতাসহ হুগলি, হাওড়া, পুরুলিয়া ও দুই  মেদিনীপুর জেলায় মৃদু ভূমিকম্প দেখা দেয়৷

এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল হুগলিতে গোঘাটের  কাছাকাছি৷ রিখটার স্কেলে  এর তীব্রতা ছিল ৫৷ ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ১০ কিলোমিটার  নীচে৷ এটা  মাঝারি  ধরণের ভূমিকম্প৷ এতে মাটি কেঁপে ওঠা ছাড়া  বড়  কিছু  একটা  হয় না৷  তবে হুগলির  খানাকুলের  কাছে কয়েকটি  মাটির  বাড়ি  পড়ে গেছে৷  অন্যত্র  কিছু কিছু  বাড়ীর দেওয়ালে চিড় ধরেছে৷ এই এলাকায়, মাটির নীচে,  রয়েছে ‘ইয়েসিন হিঞ্জ’৷ ভূত্বকের  এই ফাটল  বঙ্গোপসাগর থেকে  বাংলার  নীচ দিয়ে  ময়মনসিং পর্যন্ত  বিস্তৃত৷ এই ফাটলে ৬.৮ মাত্রার পর্যন্ত  ভূমিকম্প হতে পারে৷

এর আগে ১৯৬৪ সালে  পিংলা  ফল্টে ৫.৪ মাত্রার  ভূমিকম্প  হয়৷  পরে ২০০৫ সালে  ও ২০১০ সালে  যথাক্রমে  ৪ ও ৩.৫ মাত্রায়  ভূমিকম্প  হয়৷  ২০১৩ সালের ১লা  জুন ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ভূমিকম্প  (৩.৬) হয়েছিল৷ চলতি বছরে  ২৬শে  এপ্রিল  দঃ দিনাজপুরে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প  হয়৷ এছাড়া  জলপাইগুড়ি , দার্জিলিং, কোচবিহারে  ৩ মাত্রায়  কয়েকবার  ভূমিকম্প   কলহয়েছে৷

তবুও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গকে এ ব্যাপারে  নিরাপদ বলা যাবে না৷ খড়গপুর আইটির  ভূবিজ্ঞানীদের  মতে  দক্ষিণবঙ্গে  ৬.৮ মাত্রায় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা  উড়িয়ে  দেওয়া যায় না৷ কলকাতার মাটির নীচে কাদার স্তর থাকায় এখানে ভূমিকম্প আরও তীব্র হতে পারে৷ 

অসমে ৪০ লক্ষ বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণের চক্রান্তের প্রতিবাদে  ‘অসমগামী রেল রোকো’ আন্দোলন l  ২০০০ আমরা বাঙালী কর্মী গ্রেফ্তার

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কোচবিহার রেলরোকোকোচবিহার, ৩০শে আগষ্ট ঃ পূর্ব ঘোষণা অনুসারে অসমের নাগরিকপঞ্জী তৈরীর নামে প্রায় ৪০ লক্ষ বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণের চক্রান্তের প্রতিবাদে আমরা বাঙালীর পক্ষ থেকে আজ, ৩০শে আগষ্ট আমরা বাঙালী কোচবিহারে অসমগামী রেল অবরোধের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়৷ এই কর্মসূচী অনুসারে সকাল প্রায় ১১টার সময়  কোচবিহার শহর থেকে প্রায় ২০০০ আমরা বাঙালী কর্মী মিছিল করে নিউ কোচিবহার ষ্টেশনে এসে জমায়েত হয়৷

এখানে এই রেল অবরোধ আন্দোলনে মানব সুরক্ষা ও জাগরণ সংঘটন, সর্বভারতীয় নমঃশূদ্র কমিটিও অংশগ্রহণ করে৷ এছাড়া অসম থেকে প্রায় ১০০০ নির্যাতীত বাঙালী ও বহু বিশিষ্ট জনও এই রেল অবরোধ আন্দোলনে যোগদান করেন৷

এই রেল অবরোধ আন্দোলন রুখতে রেল ষ্টেশনে আগে থেকে প্রায় ১০০০ পুলিশ মোতায়েন ছিল৷ আন্দোলনকারীরা রেল অবরোধ করতে গেলে পুলিশ বাহিনী তাদের বাধা দেয়৷ ফলে বেশ কিছুক্ষণ ধরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি চলে৷ শেষে পুলিশ আন্দোলনকারীদের গ্রেফ্তার করে৷ প্রায় ২০০০ আমরা বাঙালী কর্মী গ্রেফ্তার হন৷

এখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরেও আমরা বাঙালী কর্মীদের আর একটি দল ও মানব সুরক্ষা ও জাগরণ সংঘটনের সদস্যরা রেললাইন অবরোধ করে৷ সেখানেও পুলিশ গিয়ে তাদের গ্রেফ্তার করে৷

প্রায় এক ঘণ্টা পরে জেলাশাসক ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের জামিনে মুক্তি দেন৷

আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দেন আমরা বাঙালীর কেন্দ্রীয় সচিব বকুল চন্দ্র রায়, সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাংঘটনিক সচিব খুশীরঞ্জন মণ্ডল, উত্তরবঙ্গ সাংঘটনিক সচিব দলেন রায়, কেন্দ্রীয় পঞ্চশাখা সচিব সুবোধ বর্মণ, জেলা সচিব সন্তোষ মোদক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রীমতী প্রতিমা রায় প্রমুখ৷

মানব সুরক্ষা ও জাগরণ সংঘটনের নেতা রাজু ঘোষ, সর্বভারতীয় নমঃশূদ্র কমিটির সম্পাদক মুকুল বৈরাগী, গুয়াহাটীর বিশিষ্ট আইনজীবী নজরুল ইসলাম প্রমুখও আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন৷