প্রবন্ধ

প্রাউটের ক্রয়ক্ষমতা ভিত্তিক অর্থনীতি

আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূত

বিশ্বের পরিস্থিতি যে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে পেরিফেরিয়াল চেঞ্জ বা ছোটখাট পরিবর্তনে আর চলবে না, মানুষ চাইছে সর্বব্যাপক এক বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন৷ মানুষ চাইছে নোতুন আদর্শ, নোতুন জীবনবোধ বা মূল্যবোধ, নোতুন তত্ত্ব, মানুষের দুঃখ–দুদর্শার সত্যিকারের অবসান ঘটাতে পারবে এমন নোতুন অর্থনীতি৷ কী সেই নবতর অর্থনীতি? এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাউটের অর্থনীতির কথা সামনে আসছে৷

নব আদর্শে---নব উদ্দীপনায় সবাই উজ্জীবিত হোক

জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

মনুষ্য জাতির ইতিহাসে দেখা গেছে যখনই কোন মহাপুরুষ, মনীষী, সমাজ সংস্কারক, নূতনের বার্তাবহ মানুষের কল্যাণে, নিপীড়িত মানবতার সংকট মোচনে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছেন, জ্ঞানের আলোকবর্ত্তিকা ঊধের্ব তুলে ধরেছেন তখনই অন্ধকারের পিশাচেরা, ভাবজড়তার ধবজাধারীরা নিজেদের সর্বনাশের আতঙ্কে যূথবদ্ধভাবে তার বিরোধিতা করেছে, চক্রান্ত করেছে---এমনকি ছলে-বলে-কৌশলে তাদের হত্যার ষড়যন্ত্রও করেছে৷ প্রাচীন যুগের সেই সদাশিবের সময় থেকেই একই ধারাপ্রবাহ বয়ে চলেছে৷ পাহাড়ে-পর্বতে ছড়িয়ে-ছিঁটিয়ে থাকা মানুষজনকে এক সূত্রে গেঁথে, বিবাহ ব্যবস্থার প্রচলন করে’ মানব সমাজকে একটা বিধিবদ্ধ রূপ দিয়েছিলেন সদাশিব৷ এছাড়াও বৈদ্যক শাস্ত্রের সৃষ্

বেদ রচনার কাল

ঋগ্বেদ অনেক প্রাচীনকালের৷ তবে জৈনযুগের বেশকিছু পূর্বের কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ ব্যাস বেদের প্রাচীনতম অংশ, মধ্যযুগীয় অংশ ও শেষ যুগের  অংশকে তিনটি পৃথক ভাগে বিভক্ত করে দেন৷ আমি এখানে ‘জৈনযুগের বেশকিছু পূর্বেই’ ব্যবহার করলুম কারণ প্রাকৃত ভাষায় রচিত জৈনশাস্ত্রে বেদগুলির উল্লেখ রয়েছে৷ বেদগুলি রচিত সংসৃক্ত ভাষার প্রাচীন রূপে, জৈন শাস্ত্রগুলি রচিত সংসৃক্তজ প্রাকৃত ভাষায়৷ জৈনধর্মের প্রবক্তা বর্দ্ধমান মহাবীরের জন্ম হয়েছিল আজ থেকে আড়াই হাজার বছরের কিছু পূর্বে আর প্রাকৃত ভাষার জন্ম হয়েছিল আজ থেকে আনুমানিক চার হাজার বছর থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে৷ তাই বেদের যে অংশ যত অর্বাচীন রূপেই গণ্য হোক না কেন, তা অবশ্যই পাঁ

নীলকণ্ঠ দিবস

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

১২ই ফেব্রুয়ারী ‘নীলকণ্ঠ’ দিবস৷ আনন্দমার্গের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন৷ আজ থেকে ৪৫ বছর আগে ১৯৭৩ সালের ঘটনা৷ পটনার বাঁকিপুর সেন্ড্রাল জেলে মিথ্যা অভিযোগে বন্দী মার্গগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূত্তিজীক্ হত্যার উদ্দেশ্যে ওষুধের নামে প্রাণঘাতী মারাত্মক বিষ প্রয়োগ করা হয়৷ কিন্তু মার্গগুরুদেব সেই বিষকে আত্মস্থ করে তাঁর প্রতিক্রিয়া নষ্ট করে দেন৷

মার্গগুরুদেব এই বিষ প্রয়োগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করেন৷ সরকার তাঁর দাবীতে কর্ণপাত করেনি৷ এরপর ১লা এপ্রিল (১৯৭৩) তিনি এই দাবীতে অমরণ অনশন শুরু করেন৷ এই ঐতিহাসিক অনশন চলেছিল পাঁচ বছর চার মাস দুই দিন৷

কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বাজেট অত্যন্ত হতাশাজনক

প্রভাত খাঁ

কেন্দ্রীয় সরকার ১লা ফেব্রুয়ারী লোকসভায় ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের জন্যে আয়-ব্যয়মাতৃকা (বাজেট) পেশ করেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷ অর্থমন্ত্রী ভারতের কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোন্নয়নের লক্ষ্যে এই াজেট পেশ করেছেন৷ গ্রামীণ ভারতের আর্থিক অবস্থা যে শোচনীয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ এই আর্থিক প্রস্তাবে কৃষির উন্নয়নের তেমন কোনও দিক্দর্শন নেই৷ তাই কর্ষকরা এতে আশ্বস্ত হতে পারেন নি৷ তাছাড়া বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের কর নীতি নির্ধারণ ব্যাপারে শহরের মধ্যবিত্তেরাও হতাশ৷ সরকার দেশের ৮ শতাংশ আর্থিক উন্নয়নের দাবী করছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের মতে এবারের বাজটে কৃষিমুখী ঘ

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ও মাইক্রোবাইটাম

সমরেন্দ্রনাথ ভৌমিক

স্বভাব অনুযায়ী মৌমাছিদের উপযুক্ত স্থান হ’ল ফুলের ওপর অর্থাৎ পবিত্র ও সুগন্ধ পরিবেশই  হ’ল থাকার প্রিয় স্থান৷ অপরপক্ষে  মশা-মাছি এরা পচাগলা দুর্গন্ধ পরিবেশেই থাকতে ভালবাসে৷ ঠিক তেমনি পজিটিভ মাইক্রোবাইটাম এদের  স্বভাব অনুযায়ী সাত্ত্বিক পরিবেশই হ’ল থাকার  প্রিয় স্থান৷ অর্থাৎ পজেটিভ মাইক্রোবাইটামেরা সাত্ত্বিক পরিবেশেই প্রভাব বিস্তার করে৷ কিন্তু নেগেটিভ মাইক্রোবাইটামেরা সাত্ত্বিক পরিবেশে থাকতে পারে না৷ এই কারণেই সাত্ত্বিক মানুষ যদি সাত্ত্বিক পরিবেশে হোমোপ্যাথ ঔষধের  উপাদান বা মাদার টিংচার  থেকে হোমেপ্যাথ ঔষধ  তৈরী  করেন  তা হ’লে  ঐ ঔষধের  মধ্যে পজেটিভ মাইক্রোবাইটা আকৃষ্ট হয়৷  হোমোপ্যাথ ঔষধের মধ্য

ঊণসত্তরতম প্রজাতন্ত্র দিবসে কিছু মৌলিক ভাবনা

জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

২০১৮ সনের ২৬শে জানুয়ারী ভারতের ৬৯-তম প্রজাতন্ত্র দিবস সমগ্র ভারতবর্ষে মহা সমারোহে পালিত হ’ল৷ ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী থেকেই স্বাধীন ভারতের শাসনকার্য সুচারুভাবে পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে ভারতের সংবিধান কার্য্যকর হয় ও অদ্যাবধি বহুবার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে৷ প্রজাতান্ত্রিক তথা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করাই দেশের শাসকবর্গের একমাত্র লক্ষ্য৷ তাই বিধানসভা, লোকসভার সদস্যগণ, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও সকল মন্ত্রীগণ ভারতীয় সংবিধানের নামে শপথ নিয়ে জনগণকে নিরপেক্ষ ও নিঃস্বার্থভাবে সেবার অঙ্গীকার করেন কারণ গণতন্ত্রে মূল প্

নৈতিকতা

দাদাঠাকুর

ছোট্ট ভাইবোনেরা, তোমরা জেনেছ যে মানব জীবনের লক্ষ্য হ’ল ঈশ্বরকে উপলব্ধির দ্বারা আনন্দ লাভ করা৷ কিন্তু আমাদের মনের কামনা–বাসনা, লোভ–লালসা আমাদের ঈশ্বরের দিকে না নিয়ে গিয়ে আপাত সুখের জন্যে জড় ভোগের দিকে নিয়ে যায়৷ মনের এই কামনা বাসনাকে বাধা দিয়ে ভোগমুখী মনকে ঈশ্বরমুখী করা দরকার৷ তার জন্যে চাই কিছু বিধি–নিষেধ৷ যেমন, একটা চারা গাছকে গোরু–ছাগল থেকে রক্ষা করে বড় করে তুলতে গেলে তার চারপাশে বেড়া দেবার প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি সাধকের সাধনার পথে এগিয়ে চলার জন্যে যে প্রাথমিক বেড়া বা অনুশাসনের প্রয়োজন তার নাম নীতিবাদ বা নৈতিকতা৷

একুশে ফেব্রুয়ারীর শপথ

  ডঃ গোবিন্দ সরকার

ভারতের বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ২১শে ফেব্রুয়ারী ঢাকা ও অসমের ১৯ শে মে’র শিলচরের বাংলা ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির কাছে এক স্পর্শকাতর আবেগ মথিত বিষয়৷ ঘটনাগুলির উত্থাপন ও স্মৃতি রোমান্থনে আমরা যুগগৎ স্বজন হারানোর ব্যথায় বেদনার্ত হই ও স্বজাতির মহিমাময় আত্মত্যাগে গর্ব অনুভব করি৷ এক দুটো উদ্ধৃতিতে তার প্রমাণ মেলে –

‘‘মুক্তির মন্দিরে সোপানতলে কত প্রাণ হল বলিদান

                লেখা আছে অশ্রুজলে৷

কত  বিপ্লবী  বন্ধুর রক্তে রাঙা বন্দীশালার ঐ শিকলভাঙা

                তারা কি ফিরিবে আজ

                তারা কি ফিরিবে এই সুপ্রভাতে