প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

সমাজের কল্যাণে সকল শ্রেণীর মানুষের উপযোগ গ্রহণ

সমাজের উন্নতি বা প্রগতি ব্যষ্টি–বিশেষের একক প্রচেষ্টায় হয় না, বা হতে পারে না৷ কেউ দেয় মস্তিষ্ক্, কেউ দেয় হাত, কেউ পা৷ তাই সুবিচার করতে গেলে পা–কে হীন আর মাথাই সর্বস্ব অথবা মাথাটার কোন দাম নেই–বুদ্ধিজীবী মাত্রেই শোষক, আর যারা গায়ে গতরে খেটে চলেছে তারাই সবকিছু–এই দুই প্রকার চিন্তাধারাই সমান বিপজ্জনক৷ আসল কথাটা হচ্ছে কে নিজের সামর্থ্য কতখানি কাজে লাগিয়েছে সেইটাই বিচার করে’ দেখা৷ সমুদ্র বাঁধতে গিয়ে হনুমানের পর্বত বয়ে আনা, আর কাঠবেড়ালীর নুড়ি বয়ে আনা তত্ত্বগত বিচারে তুল্যমূল্য৷ কারও আন্তরিকতাতেই আমরা সন্দেহ রাখতে পারি না, অবজ্ঞাও করতে পারি না৷ নিজের সম্পদ যে যথাযথভাবে খাটায়নি সে যদি, যে নিজের সম্

আদর্শ সংবিধানের জন্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রসঙ্গে

সমাজচক্রের পরিবর্ত্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের দায়িত্ব ও কর্ত্তব্য পালনের প্রয়োজনে মানুষের সমাজে কিছু সংস্থার উদ্ভব হয়৷ তাদের মধ্যে রাষ্ট্র হ’ল একটা গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা৷ একটা বিশেষ অঞ্চলে বসবাসকারী কোন জনগোষ্ঠী নিজের মঙ্গল ও উন্নতির প্রয়োজনে নিজেদের শাসন পরিচালনার জন্যে যে সংস্থার সৃষ্টি করে তাই হ’ল রাষ্ট্র৷ এই সংস্থা খুবই শক্তিশালী কারণ দেশের সার্বভৌম ক্ষমতা তারই হাতে ন্যস্ত৷

ভাষার ক্ষেত্রে অবদমন চলবে না

ভাষা মানুষের অন্তরের ভাব প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম৷ এই ভাষা মানুষের প্রাণীন সম্পদ–যা তার প্রাণধর্ম অর্থাৎ সত্তাগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত৷ নিজস্ব মাতৃভাষায় একজন যেমন স্বচ্ছন্দে ও সাবলীল ভাবে নিজের ভাবকে প্রকাশ করতে পারে তেমনটি অন্য কোন ভাষায় পারে না৷ মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে সে অসুবিধা বোধ করে৷ প্রতিনিয়তই যদি অন্য ভাষায় কথা বলিয়ে এরূপ অস্বচ্ছন্দ বোধ করতে তাকে বাধ্য করান হয়, তবে তার প্রাণশক্তি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে–ক্রমশ প্রাণশক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে৷ এই রকম পরিস্থিতিতে সেই ব্যষ্টি বা ব্যষ্টি সমূহের মধ্যে এক মনস্তাত্ত্বিক সংকট দেখা দেবে৷ প্রথমেই তার মধ্যে দেখা দেবে এক ধরণের হীন

সুভাষচন্দ্রের ‘কৌলালিক’ ভূমিকা

(পরমশ্রদ্ধেয় শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার তাঁর ‘শব্দ চয়নিকা’ (জ্ঞানকোষ) গ্রন্থে ‘কুলাল’ শব্দ ও তার বিভিন্ন অর্থ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসুর ‘কৌলালিক’ ভূমিকা সম্পর্কে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তা তুলে দেওয়া হ’ল৷)

চারটি সামূহিক মনস্তত্ত্ব

শূদ্র–মনস্তত্ত্ব

ব্যষ্টি মানসের তর৷ যেখানে জড়ের তরে৷র সে৷ তাল রেখে চলবার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাকে আত্মসাৎ করবার চেষ্টা করছে না, সে ক্ষেত্রে তার এই তাল রেখে চলবার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যষ্টি–মানসকেও জড়–ভাবাত্মক করে’ দেয়৷ জড়–ভাবের ভাবুক এই ব্যষ্টি–মানস–স্বভাবতঃই যাতে তমোগুণী অন্ধকার বেশী, তাকেই বলি শূদ্র৷ এদের দ্বারা কোনো কিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, কারণ স্থূলতম তর৷ জড়তর৷ই এদি’কে নিয়ন্ত্রণ করে৷

ক্ষাত্র–মনস্তত্ত্ব

শিল্পে সমবায়

বিশ্বের কোন জীবকেই আমরা উপেক্ষা করতে পারি না৷ বিশ্বের এক অংশের শিল্পোন্নয়ন অন্য অংশের দারিদ্র্য বা বেকারীকে ভালভাবে দূর করতে পারে না৷ তাই শিল্প–ব্যবস্থা যতদূর সম্ভব বিকেন্দ্রীকরণ নীতি অনুযায়ীই করা উচিত৷

শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ ঃ কোন একটি দেশ বা জেলা যদি অত্যধিক শিল্পোন্নত হয়, তাতে অপরাপর অংশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোন রকম সুবিধা হয় না৷ তাই শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ দরকার৷ কিন্তু মূল শিল্প থাকবে কেন্দ্রীকৃত৷ উদাহরণস্বরূপ, সুতাকল শিল্প হবে কেন্দ্রীকৃত–যাকে কেন্দ্র করে’ বিকেন্দ্রীকরণ পদ্ধতিতে গড়ে’ উঠবে বস্ত্রবয়ন শিল্প৷

পশ্চাৎপদ শ্রেণীর উন্নয়ন

বিশ্বের বিভিন্ন পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করা আমাদের আশু কর্ত্তব্য৷ যেহেতু বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সামাজিক–অনৈতিক ব্যবস্থাগুলি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন পূর্ত্তির প্রতি ও সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নতির প্রতি নজর না দিয়ে সমাজের এক বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে’ চলেছে, সেইজন্যেই পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক অবদমনের শিকার হচ্ছে৷

যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসাবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়

কোন অঞ্চলের সরকারী বা বেসরকারী সংস্থা ও অফিসগুলিতে স্থানীয় ভাষাকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে ভাষা মানুষের অন্তরের ভাব প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম৷ এই ভাষা মানুষের প্রাণীন সম্পদ–যা তার প্রাণধর্ম, অর্থাৎ সত্তাগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত৷ নিজস্ব মাতৃভাষায় একজন যেমন স্বচ্ছন্দে ও সাবলীলভাবে নিজের ভাবকে প্রকাশ করতে পারে, তেমনটি অন্য কোন ভাষায় পারে না৷ মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে সে অসুবিধা বোধ করে৷ প্রতিনিয়তই যদি অন্য ভাষায় কথা বলিয়ে এরূপ অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে তাকে বাধ্য করান হয়, তবে তার প্রাণশক্তি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে–ক্রমশ প্রাণশক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে৷ এই রকম পরিস্থিতিত

পৃথিবীর চারটি মৌলিক জনগোষ্ঠী

পৃথিবীতে মৌলিক জনগোষ্ঠী আছে চারটি–ককেশীয়, মঙ্গোলীয়, অষ্ট্রিক ও নিগ্রো৷ অনেকে অবশ্য সেমিটিক জনগোষ্ঠীকে এর মধ্যে ফেলতে চান না৷ তাদের মতে সেমেটিকরা আলাদা জনগোষ্টী, এরা মধ্যপ্রাচ্যের লোক৷ আবার কারো কারো মতে এরা ককেশীয় ও নিগ্রোদের বিমিশ্রণ৷ ককেশীয়দের তিনটি শাখা রয়েছে–(১) নর্ডিক (ত্ত্বপ্সব্জস্তুন্ন্তু), (২) এ্যালপাইন (ট্টপ্তহ্মনুন্দ্ব), (৩) ভূমধ্যসাগরীয়৷ ‘নর্ডিক’ কথাটার অর্থ হচ্ছে ‘উত্তুরে’৷ লাতিন ‘নর্ড’ (ত্ত্বপ্সব্জস্তু) কথাটা থেকে ‘নর্ডিক’ শব্দটি এসেছে৷ এ্যালপাইনরা বেশী উত্তরেও নয়, আবার বেশী দক্ষিণেও নয় অর্থাৎ এরা মধ্যদেশীয়, আল্প্স্ পর্বতের সানুদেশের বাসিন্দা৷