প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

প্রাউট প্রসঙ্গে প্রবচন (২) - শ্রমিক সমস্যা

পৃথিবীর সর্বত্রই শ্রমিক সমস্যা এক দুরারোগ্য ব্যাধির আকার ধারণ করেছে৷ প্রাচীন কালে বোনাস বলে কিছু ছিল না৷ কিন্তু ক্ষৃহৎ শিল্প দয়া করে কিছু বোনাস দিত৷ কিন্তু বর্তমানে বোনাস পাওয়া শ্রমিকদের একটা অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে৷ লক্ষ্যণীয় এই যে, যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে বেশীর ভাগ জায়গায় সেই দল শ্রমিক আন্দোলন দাবিয়ে রাখে, আর যখন ক্ষমতায় থাকে না, তখন শ্রমিক আন্দোলন সমর্থন করে৷ উদাহরণস্বরূপ কমিউনিষ্ট পার্টি ভারতের স্ট্রাইক সমর্থন করে, আর (তৎকালীন) সোভিয়েত রাশিয়ায় তা দাবিয়ে রাখতো৷

প্রাউট প্রসঙ্গে প্রবচন (১)

জ্ঞান দুই ধরনের –– ৰুদ্ধি সঞ্জাত জ্ঞান ও ঐশ্বরীয় অনুভূতি সঞ্জাত জ্ঞান৷ ক্ষৌদ্ধিক জ্ঞান যেহেতু অভিজ্ঞতা সঞ্জাত সেহেতু তা আপেক্ষিকতার দোষে দুষ্ট৷ সেইজন্যেই ক্ষৌদ্ধিক জ্ঞানকে চরম জ্ঞানের দাবীদার বলা চলে না৷ ঐশ্বরীয় অনুভূতি সঞ্জাত জ্ঞানই চেতনাসম্পৃক্ত৷ এই জ্ঞানই সমস্ত কিছুকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে সমর্থ –– তাই ঐশ্বরীয় অনুভূতি সঞ্জাত জ্ঞানই চরমজ্ঞান৷

গোর্খাল্যাণ্ড আন্দোলন প্রসঙ্গে

গোর্খাল্যাণ্ড আন্দোলন যা পশ্চিমৰঙ্গের উত্তরাংশের কয়েকটি জেলা দাবী করছে, তা আজ  এক চরম অবস্থায় পৌঁছেছে৷ গোর্খা, যারা রাজ্যের বাইরে থেকে এসেছে, তারা ভারতের নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে এখন একটি পৃথক রাজ্য দাবী করছে৷

সামাজিক–অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ

সভ্যতার উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে জেগেছিল শিল্প সৃষ্টির এষণা ও প্রেষণা৷ এষণাই প্রেষণাকে ডেকে আনে৷ সভ্যতার প্রথম ধাপে শিল্পমাত্রই ছিল কুটির শিল্প৷ নারী–পুরুষ–বালক–ব্ নির্বিশেষে সবাই শিল্প রচনায় হাত লাগাত৷ পরে দেখা গেল কিছু  শিল্প গ্রামে গ্রামে করা যায় না.....করতে হয় কিছু সংখ্যক গ্রাম নিয়ে৷ তা না হলে তাদের একদিকে যেমন বাজারের ঘাটতি পড়ে, অন্যদিকে তেমনি শিল্পীর সংখ্যাতেও অভাব দেখা দেয়৷ তখন মানুষ প্রথম শিল্পায়োগ বা কারখানায়* যেতে শুরু করল৷ এখানে প্রসঙ্গতঃ একটা কথা বলে’ রাখি৷ শিল্প যত বেশী কুটীর–শিল্প হয়, শিল্প যত বিকেন্দ্রীকৃত হয়, মানুষের সুবিধা তত বেশী৷ এতে যে শুধু আর্থিক সামর্থ্যকে চারি

দেশপ্রেমিকের প্রতি

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

কিন্তু নেতারা কি তা করতে পারবে বা করতে চাইবে? যদি তারা এমনটি করতে পারে তাহলে খুব ভাল৷  তবে বর্তমানে অধিকাংশ নেতাই মুখে যত বড় লম্বা-চওড়া বুলি বলুক না কেন, আসলে তারা পঁুজিবাদী অথবা জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে পঁুজিবাদেরই দালালি করে চলেছে৷ জনসাধারণ ক্রমশই ঃ তাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে৷ যাই হোক, বর্তমান নেতারা শোষণ বিরোধী সংগ্রামে অবতীর্ণ হবে---  এ ধরণের ভরসা আমরা ঠিক করে উঠতে পারছি না৷ তারা এই মজবুত সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে একতাবদ্ধ করবার চেষ্টা করবে না৷

রাষ্ট্র ভাষা

রাষ্ট্র ভাষার মত একটা বিতর্কমূলক বিষয়ের অবতারণা করা খুবই হঠকারিতার কাজ হয়েছে এতে রাষ্ট্রীয় ঐক্য তো বাড়েই নি, বরং তার বৈপরীত্যে অনৈক্যের মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে গেছে৷

কেউ কেউ আবার সমগ্র ভারতবর্ষের জন্যে একটি লিপি প্রবর্তনের কথা ভাবছেন৷ এটা কি আদৌ বৈবহারিক বা বাঞ্ছনীয়? সমগ্র পাকিস্তানে উর্দুলিপি প্রবর্তনের পরিণাম কি তারা ভূলে গেছেন? (পাকিস্তানের ন্যাশানাল সেন্টিমেন্ট তবু তো ভারতের চেয়ে ঢের বেশী মজবুত ছিল)৷ যে ভারতবর্ষে রাষ্ট্রীয়তাবাদ একটি নির্দিষ্ট রূপই পরিগ্রহ করেনি সেই ভারতবর্ষ সম্বন্ধে কী-ই বা বলা যায়!

দেশপ্রেমিকের প্রতি

ব্রিটিশি-বিরোধী সেন্টিমেন্টের ফলে ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন প্রথম ভারতীয় নেশন গড়ে উঠল, ভারতবর্ষের নেতাদের উচিত ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্যে সংগ্রাম না করে অর্থনৈতিক সংগ্রাম করা। অর্থনৈতিক সংগ্রামে হিন্দু-মসলমান-পাঞ্জাবী-মারাঠি ভেদ না থাকায় সকল ভারতবাসীই একযোগে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারত ও সেই সংগ্রামের ফলে সারা ভারতবর্ষে দেখা দিত একটা শোষণ বিরোধী সেন্টিমেন্ট। সেই সেন্টিমেন্ট ভারতবাসীকে নেশন হিসাবে আরও মজবুত করে গড়ে তুলতে পারত। সংগ্রাম রাজনৈতিক স্বাধীনতায় না হওয়ায় ভারতবর্ষ স্বাধীন হলে হিন্দুদের প্রজা হিসেবে আমাদের থাকতে হবে---মুসলমানদের মনে এরূপ হিন্দু-আতঙ্ক বা হিন্দু-ফোবিয়া উৎপন্ন হবার কোনো সুযোগ

দেশপ্রেমিকের প্রতি

নেশনশব্দের অর্থ প্রকৃত ব্যাখ্যা কী--- এ নিয়ে মতভেদের অন্ত নেই৷ কেউ বলেন,মানবগোষ্ঠী একই রাষ্ট্রের বাসিন্দা তারাই একটা নেশন৷ অবশ্য রাষ্ট্র বা দেশকে সমার্থক ধরলেও নেশন