সম্পাদকীয়

উচ্চশিক্ষাও সম্পূর্ণভাবে ফ্রি হোক

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সম্প্রতি  মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের  ফল প্রকাশিত হ’ল৷ এই  প্রসঙ্গে কয়েকটি  জিনিস বিশেষ  উল্লেখনীয়৷ প্রথম কথা,  এবার পরীক্ষার  ফলে দেখা গেছে  মেধা তালিকায় কলকাতাকে অনেক পিছে ফেলে এগিয়ে গেছে গ্রামবাংলা  তথা গ্রাম বাঙলার বিভিন্ন  শহরগুলো৷ মাধ্যমিকে  তো প্রথম  দশ শীর্ষস্থান  বিভিন্ন জেলার  ছেলেমেয়েরাই  পেয়েছে৷ কলকাতা বর্তমান সমাজের  তথাকথিত এলিট শ্রেণীর  বাসস্থান৷  টাকা পয়সা, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী পদ, নানান সুযোগ  সুবিধা, ছেলেমেয়েদের  পড়াশুণার  জন্যে খরচের বহর সবকিছুর দিক থেকে  কলকাতার সঙ্গে  অন্যান্য  জেলার মানুষদের  তুলনাই  হয় না৷  তবুও  জেলাগুলির জয়জয়কার ৷ এছাড়া পরীক্ষার  ফলাফলে আরও যে সব

শিক্ষাকেন্দ্রে  চরম বিশৃঙ্খলা

অাচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

সম্প্রতি কলকাতার  সেন্ট পলস্ কলেজে ছাত্র সংসদের এক পদাধিকারীকে নগ্ণ করে হেনস্থা করা হয়েছে ও সেই  ছবি তুলে ছড়িয়ে  দেওয়া হয়েছে৷  যারা হেনস্থা করেছে ও যাকে হেনস্থা করা হয়েছে ,  সবাই তূণমূল ছাত্রপরিষদের  পদাধিকারী৷ হেনস্থাকারীদের মধ্যে অশিক্ষক কর্মী ও বহিরাগত টিএমসিপি সদস্যও রয়েছে বলে অভিযোগ৷

চাই নোতুন মানুষ, নোতুন আদর্শ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

সব রাজনৈতিক নেতারাই তারস্বরে গণতন্ত্রের সুনাম করেন৷ রাজতন্ত্র, অভিজাত–তন্ত্র, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব নয়– এমন বোধ করি একজনও নেতা বা নেত্রী পাওয়া যাবে না৷ তবুও এ প্রশ্ণটা অত্যন্ত সঙ্গত যে– গণতন্ত্রকে কেউ কি মানে?

গণতন্ত্র মানে তো জনগণ, কারও চাপে নয়, স্বাধীন ভাবে বিচার–বিবেচনা করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে৷ আর সেই জনপ্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনা করবে৷ তবে তাকে বলা হবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনগণের জন্যে–জনগণের সরকার৷ একেই বলে গণতন্ত্র৷

বাঙলার নবজাগরণ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

বাঙালী জাতি আজ নিজেদের গৌরবময় ভাষা-সংসৃকতি সম্পর্কে সচেতন নয়৷ বাঙালীরা আজ বাঙলার মনীষীদের কথা প্রায় ভুলতে বসেছে৷ আর এটাই বর্তমানে বাঙালী জাতির অবক্ষয়ের প্রধান কারণ৷ একটা জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, তাদের মনীষীদের শিক্ষা তাদের এগিয়ে চলার প্রেরণার উৎসস্থল৷ কিন্তু সেই মনীষীদের স্মরণ করা, তাদের শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের শৈথিল্য আজ অত্যন্ত প্রকট৷

১৯শে মে–বাঙ্লা ভাষা শহীদ দিবস প্রসঙ্গে

অাচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

১৯৬১ সালের ১৯শে মে শিলচরে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবীতে বাঙালীদের আন্দোলন ও পুলিশের গুলিতে ১১ জনের প্রাণ দেওয়ার ঘটনাকে আজ ভারতের বাঙালীরা প্রায় ভুলেই গেছে বললে হয়৷ অসমের বরাক উপত্যকা চিরকালই বাঙলাভাষী এলাকা৷ কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের চক্রান্তে ও স্বাধীনতার পর হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের ফলে অবিভক্ত বাঙলার (অবশ্যই বাংলাভাষী) বিশাল এলাকা অসমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়৷ শুধু তাই নয়, বাঙালীদের মাতৃভাষা শিক্ষা ও সরকারী কাজে তাঁদের মাতৃভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে যায়৷ এর বিরুদ্ধেই ১৯৬১ সালে বাঙালীরা গর্জে উঠেছিলেন ও তাঁরা এর প্রতিবাদে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন৷ সেই আন্দোল

কী খাব? কোন্ পথে যাব?

অাচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

সম্প্রতি ভোজন রসিকদের মধ্যে হাহাকার শোণা যাচ্ছে৷ সবার মুখে প্রশ্ণ, ‘কী খাব?’ রা ভোজন রসিক, বিশেষ করে কলকাতার তথাকথিত অভিজাত বা পয়সাওয়ালা শ্রেণীর মানুষ যাঁরা প্রায় নিয়মিত নিউমার্কেটের বড় বড় হোটেল, রেস্তোঁরায় বা অন্যান্য নামী-দামী হোটেল রেস্তোঁরায় জমিয়ে মাংসের আইটেম খেতেন, তাঁদের চোখে-মুখে এখন আতঙ্ক৷ এতদিন আমরা ভাগারের মৃত পশুর মাংস বা পচা মুরগীর মাংস জমিয়ে খেতুম৷ এখন তো মাংসের প্রতি ঘেন্না ধরে যাচ্ছে৷ বলা বাহুল্য, বড়-ছোট সব হোটেল, রেস্তোঁরায় এতদিন ভাগারের এই পচা মাংস বা রাজাবাজারের হিমঘর থেকে পচা মুরগীর মাংসের সঙ্গে নানান কেমিকেল মিশিয়ে সুস্বাদু করে সরবরাহ করা হ’ত৷ স্বাভাবিকভাবে এইসব মাংষ ডে

কেন এই আক্রমণ?

অাচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

১৯৮২ সালের ৩০শে এপ্রিল৷ গত কয়েক শতাব্দীর ইতিহাসে বোধকরি সবচেয়ে পৈশাচিকতম ঘটনা ঘটে গেল আজকের সভ্যতার পীঠভূমি কলকাতার বিজন সেতু ও বণ্ডেল গেটের মত জনাকীর্ণ এলাকায়৷ প্রকাশ্য দিবালোকে৷ আনন্দমার্গের ১৬জন সন্ন্যাসী ও ১জন সন্ন্যাসিনীকে বর্ণনার অতীত নৃশংসতম ভাবে খুন করল তৎকালীন শাসকদল সিপিএম’এর গুণ্ডাবাহিনী৷ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করল৷ স্পষ্টই বোঝা যায় এই হত্যার ষড়যন্ত্র একেবারে ওপর মহল থেকেই করা হয়েছিল৷

আনন্দপূর্ণিমার পুণ্য তিথি স্মরণে সর্বাঙ্গসুন্দর আদর্শ সমাজ গড়ার সংকল্প নিন

অাচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

আগামী ২৯শে এপ্রিল বৈশাখী পূর্ণিমা প্রাউট–প্রবক্তা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার, যিনি ধর্মগুরু মহাসম্ভূতি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী নামে বিশ্ববাসীর কাছে সমধিক পরিচিত–তাঁর শুভ ৯৮ তম আবির্ভাব তিথি৷ সারা বিশ্বের আনন্দমার্গীদের কাছে এই বৈশাখী পূর্ণিমা আনন্দপূর্ণিমা রূপে পরিচিত৷ এই পুণ্য তিথিতে মহাসমারোহে সর্বত্র মার্গগুরুদেবের ৯৮ তম জন্ম জয়ন্তী পালন করা হচ্ছে৷

পঞ্চায়েত নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূ্ত

পঞ্চায়েত নির্বাচনকে নিয়ে যেভাবে রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাসের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র পেশসহ যাবতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এর থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যথার্থ গণতন্ত্রের ওপর রাজনীতির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা বা কর্ত্রী ব্যষ্টিদের প্রকৃত আস্থা খুব একটা বেশী নেই৷ তাঁদের প্রায় সবারই লক্ষ্য ক্ষমতা লাভ৷ গণতন্ত্রের প্রতিঅগাধ বিশ্বাস বা শ্রদ্ধা তাঁদের নেই৷ আছে কেবল ছলে -বলে-কৌশলে গণতন্ত্রের কাঁধে চড়ে শীর্ষে আরোহণ করার প্রবল আগ্রহ৷

অসমের বাঙালী নির্যাতনের প্রতিবাদে সমস্ত বাঙালীরা রুখে দাঁড়াক

অাচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাঙালীরাই ছিল অগ্রগণ্য৷ বাস্তবিক পক্ষে উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই শ্রী অরবিন্দের নেতৃত্বে বঙ্গ-ভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু৷ রবীন্দ্রনাথও তখন এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ ‘‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’’---এই গানটি গেয়ে ব্রিটিশ শোষকদের বিরুদ্ধে বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ বাংলার অগ্ণিযুগ নামে পরিচিত হয়েছিল সেই সময়টা৷ ক্ষুদিরাম, প্রফুল্লচাকী থেকে শুরু শত শত বাঙালী বিপ্লবী স্বাধীনতার বেদীমূলে আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, কেউ ফাঁসীতে ঝুলেছিলেন কেউ প্রত্যক্ষ সংগ্রামে প্রাণ দেন, কেউ বা সারাজীবন দীপান্তরের দণ্ড নিয়ে সমগ্র জীবন দে