প্রভাতী

মিলন তীর্থ

লেখক
রামদাস বিশ্বাস

যদি পৃথিবীতে একটিই জাতি হ’ত

তার নাম মানুষ জাতি,

বল কার কত ক্ষতি হ’ত

দূর হলে রক্তের মাতামাতি৷

বাজতো না যুদ্ধের দামামা

অযথা অস্ত্রের ঝনৎকার,

কোট কোটি ডলার রুবেল টাকা

ব্যয় হ’ত না ভরা কোষাগার৷

অনাহারে রোগে ভুগে মরত না কেউ

অর্থের অভাবে রোগ-যাতনায়,

ভালবাসা কাঁটাতারে মরত না কেঁদে

প্রিয়-বিরহ-ভাবনায়৷

মানুষ পাখীর মতো উড়ে যেতো

বিদেশে বাঁধাহীন নির্বন্ধন,

স্বদেশ-বিদেশ ভেদ মুছে যেত

থাকতো না বিচ্ছেদ বেদনা ক্রন্দন৷

বর্ণবিদ্বেষ ধর্মান্ধতা ছেড়ে

হ’ত এক অভিন্ন মানব জাতি,

এক প্রীতি বন্ধনে সবাই মিলে

আনন্দে মিলে মিশে হ’ত মাতামাতি৷

মানুষ মানুষ ভাই ভাই নাই ছোট বড়ো

আমাদের আজ শুধু এই পরিচয়,

আমরা আমাদের তরে কাজ করে যাবো

অন্যথা যেন নাহি হয়৷

শুধু তাই নয় ধরা পরে যত পশু-পাখি

জীবজন্তু আর বৃক্ষলতা,

সবাই সবারই আপন সবার সাথে

প্রীতিডোরে বাঁধা আত্মীয়তা৷

শপথ

লেখক
শুভ্র ড্যানিয়েল

শপথ নেবার আজ সময় এসেছে ভাই

শপথ নাও গো আজ সবে৷

সংগ্রাম আমাদের থামবে না আর

এই দেহে প্রাণ যতদিন রবে৷৷

দিকে দিকে ওই শোন ওঠে হাহাকার

অশ্রু ঝরিছে দেখো কত শত মা’-র

তুমি ছাড়া আর কে-বা অশ্রু মোছাবে৷৷

জাগো জাগো মেলো আঁখি রাত হ’ল ভোর

ছিন্ন করহ যত বন্ধন-ডোর---

তুমি ছাড়া আর কেবা সূর্য ওঠাবে৷৷

ধরা আর সরা

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

দেশজ শব্দে ‘ট’ যথাযথভাবেই বজায় থাকে৷ আর ‘ড’ বা ‘ড়’ মৌলিক শব্দ হিসেবেই থেকে যায়৷ যেমন, আজ ভুলোর সঙ্গে ভোঁদার আড়ি হয়ে গেল৷ ওরা বলছে, ওরা আর একসঙ্গে মার্বেল খেলবে না, একটা পেয়ারাও আর কামড়াকামড়ি করে খাবে না৷ গোপনে কান পেতে শোনাকেও আড়িপাতা বলে৷ এটিও বাংলা দেশজ শব্দ৷

সেই যে একজন মহিলা আহ্লাদে আটখানা হয়ে তার এক বন্ধুকে বলেছিল–তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ায় আমার যে কী আনন্দ হচ্ছে তা ভাষায় বলতে পারছি না৷ বন্ধু বলেছিল, তোমার যে কী আনন্দ হচ্ছে তার একটু আভাস আমায় দাও৷ মহিলাটি বলেছিল, আহ্লাদের আতিশয্যে আমার এখন ধরাকে সরা মনে হচ্ছে৷ সেই সময় হয়েছে কী, একজন চাষীর গোরু হারিয়ে গেছে৷ সে গোরু খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়ে যে বাড়ির বারান্দায় বসেছে সেই বাড়িরই ঘরের ভেতর ওই মহিলাটি বলছে– আমি আনন্দের আতিশয্যে ধরাকে সরা মনে করছি৷ চাষী আড়ি পেতে কথাটা শুনে নিলে৷ এবার সেও আনন্দের আতিশয্যে ধেই ধেই করে নাচতে নাচতে ঘরের বাইরে থেকে ওই মহিলাটিকে গড় করে বললে–মা লক্ষ্মী, এই বিরাট ধরাটা যখন তোমার কাছে সরা হয়ে গেছে তখন দয়া করে বলে দাও, ওই সরার কোন্খানটিতে আমার গোরুটা রয়েছে৷

গোবর গণেশ গায়েন

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

 যে সোজা পথে চলে না, মার প্যাঁচ করে দিন কাটে সে কুট্টনী........কুটনী৷ এই কুট্টনীর স্বভাবসংক্রান্ত ব্যাপারকে বলব কৌট্টনী বা কৌট্টনিক৷ কুট্টনী+অন = কৌট্টনী আর কুট্টনী+ঠক=কৌট্টন্৷ এই মার প্যাঁচ সংক্রান্ত বিদ্যাকে বলা হয় কুট্টনী বিদ্যা বা কৌট্টনী বিদ্যা৷ যারা গোমরামুখো, যারা ‘‘রাম গরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা’’ তাদের সম্বন্ধে কথ্য বাংলায় বলা হয় কুট্টনী–মুখ৷

এ প্রসঙ্গে আমার একটি পুরোনো গল্প মনে পড়ে যাচ্ছে৷

আমার বিশেষ পরিচিত জনৈক রেল–অফিসার ছিলেন–ধরো, তাঁর নাম গোবর গণেশ গায়েন৷ ভদ্রলোক সব সময় মুখ বেঁকিয়েই থাকতেন৷ আমি যখন লোকের আড়ালে বলতুম–‘‘হ্যাঁরে, অমন গোমড়া মুখ করে থাকিস কেন?’’ সে বলত–‘‘হাসলে লোকে আমার মাথায় চড়ে বসবে, আমাকে মানবে না৷’’

আমি বলতুম–‘‘আচ্ছা না হয় হাসলি না, কিন্তু কথা বলিস না কেন?’’ সে বলত–‘‘কথা বললে সস্তা হয়ে যাব৷’’

আমি বলতুম– ‘‘সেজন্যে তুই দূরে থেকে খাস্তা থাকতে চাইছিস?’’  সে না হেসে বলত–‘‘হ্যাঁ’’৷

একবার আমাদের একটা বড় রকমের পিকনিক হয়েছিল৷ পোলাও–কালিয়া ও ভাল–মন্দ খাবারের এলাহী বম্যাপার৷ কাশী থেকে এসেছিল লাউয়ের আকারের প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড শীতের বেগুন৷ রান্নাবান্না হয়ে যাবার পর দেখা গেল পঞ্চাশ/ষাটটা বড়বড় বেগুন বাড়তি হয়েছে৷ সবাই মিলে ঠিক করা গেল এই বেগুনগুলো পুড়িয়ে পোলাও–কালিয়ার মাঝে মাঝে খেয়ে মুখ পালটে নেওয়া যাবে৷ যেমন ভাবা তেমনি কাজ৷ খেতে বসে প্রথমেই পরিবেশন করা হ’ল বেগুন পোড়া৷ সবাইকে উৎসাহ দেবার জন্যে শ্রীমান গোবর গণেশ গায়েনের মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল– ‘‘বাঃ, বেগুনপোড়াটা ফার্স্ট–ক্লাস হয়েছে৷’’

আর একজন বললে– ‘‘না, ফার্স্ট–ক্লাস নয়, এয়ার–কণ্ডিশণ্ড্ হয়েছে৷’’ গোবর গণেশ আবার কথা বলে ফেললে৷ সে একটু গম্ভীরভাবে বললে– ‘‘যাই হোক, খেতে ভালই  হয়েছে৷’’ তার কথা লুফে নিয়ে আমার আর একটু বেশী পরিচিত শ্রীসমর সেনগুপ্ত সুযোগের তিলমাত্র অপব্যয় না করে গোবর গণেশকে উদ্দেশ্য করে বললে–‘‘বেগুনপোড়া যখন একবার ভাল লেগেছে স্যার তখন দেখবেন ওই পোড়ার মুখে বাকীগুলোও ভাল লাগবে৷’’

গোবর গণেশ ঠাট্টাটা না বুঝে আরও গম্ভীরভাবে ভোজনে মনোনিবেশ করলে৷

এই কুটনী স্বভাবের লোকেদের কেউই পছন্দ করে না৷ ওরা যেমন লোককে অবহেলা করে, লোকেও তেমনি সুযোগ বুঝে ওদের বিশ কথা শুনিয়ে দিতে ছাড়ে না৷ তোমরা কিছুতেই এই ধরনের কুট্টনী বুদ্ধিকে প্রশ্রয় দিও না৷ এতে সমাজেরও ক্ষতি, তোমাদেরও ক্ষতি৷

সূর্য ওঠার আগেই

লেখক
মৃত্যুঞ্জয় মাইতি

আমি তখন প্রথম ভোরের বেলায়

কচি চারাগাছ এনে

যত্নে পুঁতি আঙিনায়

দিনে দিনে কিশলয় বাড়ে

রাত্রিদিন কত ভাবে আদর করি তাকে

জল দিই সকাল সন্ধ্যে

মুছিয়ে দিই তার পাতা

ঠিকঠাক করে দিই ওর পায়ের মাটি

ভেবেছিলাম চারপাশে ওর

দেব বেড়া বেঁধে এক---কিন্তু হ’ল না৷

পাশের বাড়ীর গোরুটা লম্বা জিভ দিয়ে---

একদিন ওটাকে মুখে পুরে নিল৷

কাঁদলাম কত

চোখের জলে আঙিনা গেল ভরে’

কিন্তু আর কী হবে বলো কেঁদে!

বেড়া দিয়ে ওকে পারিনি যে ধতে

তাই চিরদিনের মত হৃৎপিণ্ডে আমার

রয়ে গেল ক্ষতটা৷

তোমরা দিও না ভাই তা হতে

সূর্য ওঠার আগে

নিজের চারপাশেও ড়ো দাও বেঁধে

যাতে অকালে নষ্ট না হয় অমূল্য সম্পদ৷

ঐক্যতান

লেখক
বিশ্বপথিক

ঐক্য সূত্রে বাঁধা সবই

    বিভেদ কিছু নাই

একই পিতার পুত্র কন্যা

    সবাই ভাই ভাই৷

একই লক্ষ্য মোক্ষ মুক্তি

    বিস্তারি এমন

ঐক্যতানে প্রীতির বাণে

    চলছি অনুক্ষণ৷

একই রক্ত শিরায় শিরায়

    একই স্পন্দন

বিশালতায় ভরাতে বুক

    হচ্ছে ক্রন্দন

একই ধ্বনি অহর্নিশি

    বাজে মহাকাশে

একই রাগ অনুরাগ

    এই না বুকে বাজে

একের মাঝেই সত্যে খুঁজি

    মহত্ত্ব যায় বাড়ি

মিথ্যে কেন বিভেদ রাখি

    করছো কাড়াকাড়ি

হূদি ধারায় চাইছো যারে

    সে তো মুচ্কি হাসে

একের মধ্যেই যাবে মিশি

    সবারে ভালবেসে৷

একই আকাশ একই বাতাস

    একই মহাপ্রাণ....

আত্মীয়তা একাত্মতায়

    মিলবে পরিত্রাণ

আফিমের মৌতাত

Baba's Name
শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘ধস’ ধাতুর অর্থ হচ্ছে হত্যা করা, আঘাত করা, জখম করা, ঝরিয়ে দেওয়া৷ যে বস্তুটি আঘাত করে জখম করে তাকে ‘খস’ (খসূচ্) বলা হয়৷

 কেউ যদি অত্যধিক পরিমাণে মদ গেলে তাহলে তার যকৃৎ জখম হয়ে যায়৷ তেমনি কিছু কিছু এমন বস্তুও আছে যারা স্নায়ুকোষকে ঝিমিয়ে দেয় ও দীর্ঘকাল ধরে এই ঝিমুনির জের চলতে চলতে শেষে স্নায়ুকোষ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে৷ স্নায়ু (নার্ভ  সেল) আর কাজ করে না....বিহ্বল দৃষ্টিতে তখন ফ্যালফ্যাল করে চাইতে থাকে৷ চিন্তার প্রাখর্য তো থাকেই না, চিন্তার সামর্থ্যও শেষ হয়ে যায়৷ এই ধরণের ঘটনাটি ঘটে দীর্ঘ দিন ধরে অতিরিক্ত পরিমাণে সিদ্ধি, গাঁজা, চণ্ডু, চরস ও আফিং খেলে৷ মর্ফিন (মর্ফিয়া) ঘটিত বস্তুতে এই জঘন্য গুণ রয়েছে৷ স্নায়ুকোষ যাতে রোগগ্রস্ত না হয় সেইজন্যে গাঁজাখোর, আফিংখোররা বেশী মাত্রায় দুগ্ধ পান করে থাকে৷ তাতেও ঠ্যালা সামলানো দায় হয়৷ শেষ পর্যন্ত মানুষ জড় হয়ে যায়৷ মদ্যপানে মানুষ জড় হয় না–অতিরিক্ত উত্তেজনা জাগে৷

    মদ্য একটি অতি উত্তেজক বস্তু৷ উত্তেজক হলেও কফি কোকো–চা অল্পমাত্রায় উত্তেজক৷ তাই তারা বড় রকমের ক্ষতি করতে পারে না৷ তবে স্নায়ুর সাময়িক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় ওই বস্তুগুলি পান বা গ্রহণ করলে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়৷ আর আফিং, গাঁজা, চণ্ডু, চরস এরা ঘটায় উল্টোটা৷ উত্তেজনার বদলে আনে অবসন্নতা৷ এই অবসন্নতা শেষ পর্যন্ত মানুষকে জড়ত্বে পর্যবসিত করে৷ একটা ভুল ধারণা আছে যে আফিম খেলে বুঝি পেটের রোগ সারে৷ কথাটা ডাহা মিথ্যা৷ আফিংখোর নেশার ঘোরে ভাবে এতে বুঝি তার পেটের রোগ সারছে৷ একবার একটা ঘটনা হয়েছিল৷ এক ট্রেনে এক সাধুবাবা যাচ্ছেন.... যাচ্ছেন হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী৷ ট্রেনের অন্যান্য সহযাত্রীদের সঙ্গে বেশ ভাল ভাল কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন৷ হঠাৎ সন্ধ্যের দিকে সাধুবাবা ছটফট করে উঠলেন৷ সবাই শুধোলেন, ‘‘ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া, সাধুবাবা৷

সাধুবাবা বললেন–‘‘মাথা ঘুরছে’’৷

সবাই শুধোলে–‘‘ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া–হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া৷

সাধুবাবা জানালেন, তিনি সঙ্গে আফিমের ডিবেটি আনতে ভুলে গেছেন৷ এই সময় তিনি একটু আফিং সেবন করেন৷ সহযাত্রী ছিলেন জনৈক কলকাতার বাবু৷ তিনি বললেন ‘‘একটু অপেক্ষা করুন সাধুবাবা৷ হয়তো বা আমি একটু আফিং যোগাড় করতে পারব’ খন’’৷

বাবুটি পরের ইষ্টিশনে নেবে গেলেন৷ প্লাটফর্মের নীচের দিক থেকে একটু আফিং রঙের ভিজে মাটি তুলে এনে গুলি পাকিয়ে সাধুবাবাকে হাঁ করতে বললেন৷ বাবুটি সেই গুলি সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে ঢুকিয়ে দিলেন৷ খানিক বাদে সাধুবাবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন৷ তাঁর মাথা ঘোরাও বন্ধ হয়ে গেল৷ তিনি আবার গল্পগুজব জুড়ে দিলেন৷

কথা প্রসঙ্গে এও বললেন–দেখলেন তো আফিংয়ের গুণ৷ সামান্য একটু খেলুম৷ তাতেই মাথা ধরা সেরে গেল৷

সাধুবাবা খানিকক্ষণের জন্যে গাড়ীর বাথরুমে গেলে কলকাতার বাবুটি অন্যান্য সহযাত্রীদের বললেন–আমি প্ল্যাটফর্মের নীচের থেকে ভিজে মাটির গুলি পাকিয়ে সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে দিলুম৷ তাতেই তাঁর রোগ সেরে গেল৷  আফিংয়ে  রোগ সারে সেটা কেবল একটা মানসিক কল্পনা মাত্র৷ আফিং অবসাদ আনে৷ সেই অবসাদের আসা বা অবসন্নতায় যাওয়াটা নেশাগ্রস্ততা ছাড়া কিছুই নয়৷ আমি আরও লক্ষ্য করেছি, ওই যে গুলিটা আমি সাধুবাবার মুখে ছুঁড়ে ঢুকিয়ে দিলুম সেটা মুখের ভেতরও যায়নি৷ সাধুবাবার দাড়িতেই আটকে গেছে৷ অর্থাৎ আফিংয়ের  নেশার চেয়ে অবসন্ন হতে চাওয়াটাই নেশা৷ এককালে এই আফিং–গ্রস্ত হয়ে চীন ধবংস হতে বসেছিল....এককালে আফিমের নেশায় অসমও ধবংস হয়ে যেতে বসেছিল৷ তাই আফিংয়ের নেশা থেকে সাবধান৷

শুণেছি ভারতের কোন একটি তীর্থে–তীর্থটিকে পক্ষীতীর্থ বলা হয়–সেই তীর্থের পুরোহিত একটি নির্দিষ্ট সময়ে পাহাড়ের ওপর দেবতার প্রসাদ এক থালা রেখে দিয়ে আসেন৷ আর শকুনি জাতীয় কয়েকটি পক্ষী সেই নির্দিষ্ট সময়ে সেই প্রসাদ ভক্ষণ করতে আসে ৷ এই অপরূপ অলৌকিক দৃশ্য দেখবার জন্যে তীর্থে অনেক যাত্রী–সমাগম হয়ে থাকে৷ আমি মনে করি, আসল ব্যাপারটি হচ্ছে ওই তথাকথিত প্রসাদের সঙ্গে কিছুটা  আফিং মেশানো হয়৷ ওই আফিংমের নেশায় গ্রস্ত হয়ে পাখীরা নির্দিষ্ট সময়ে এসে ওই আফিং–মেশানো প্রসাদ খেয়ে অবসন্নতাকেই ডেকে আনতে চায়৷

একবার শোণা গেছিল যে কোন একটি হোটেলে বা রেস্তরাঁয় চা খাবার জন্যে কলেজের ছেলেদের ভীড় লেগে যেত৷ খোঁজ নিয়ে হয়তো দেখা যেত যে সেখানেও হয়তো এই পক্ষীতীর্থের মত ঘটনাই অলক্ষ্যে ঘটে চলেছে৷

আফিংয়ের  বিষ সাপের ফেনার মতই হানিকারক৷ সাপের বিষ থেকে এ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদের ঔষধ তৈরী হয় ঠিকই, তেমনি আফিং থেকে মর্ফিন/মর্ফিয়া ইন্জেকশনও তৈরি হয়৷ তবে ঔষধ তৈরি হয় বলেই স্বাভাবিকভাবে নেশার ঝোঁকে যাবার আশায় মর্ফিয়া ইনজেক্শান নেবে এটা তো সমর্থন করা যায় না৷ ‘অহিফেন’ শব্দের অর্থ সাপের ফেনা৷ মনে রেখো, ফেন বা ফেনা বানানে ‘ন’ ও ‘ণ’ দুই–ই চলবে৷ অহিফেন থেকে  ‘অহিফাম’–শব্দ এসেছে আর ‘অহিফাম’ থেকে এসেছে ইংরাজী ‘ওপিয়াম’ •Opium— শব্দটি৷ (শব্দচয়নিকা–১৪শ খণ্ড)

নোতুন দিনের স্বপ্ণ

লেখক
সুখরঞ্জন সরকার

নোতুন যুগ এসে গেছে, এলো নতুন দিন,

নোতুন দিনের স্বপ্ণে আমার  মন হ’ল রঙিন৷

নোতুন দিনে মনটাকে তাই নোতুন করে নিয়ে,

মিশে যাব সবার মনে ভালোবাসা দিয়ে৷

মনের মাঝে উঠছে বেজে, নোতুন নোতুন সুর,

এই সুরেতে মনের বিষাদ করব আমি দূর৷

সবার সাথে মিলে মিশে বাঁধব সুখের ঘর,

সবাই আমার হবে আপন থাকবে না কেউ পর৷

হাসিমুখে সবার সাথে করব আলাপন,

করব নাকো কারো সাথে অসদ্ আচরণ৷

সুখ–দুঃখের সমভাগী হব সবার সনে,

হিংসা দ্বেষের ঘৃণ্য বাসা বাঁধবো নাকো মনে৷

ধর্ম বর্ণের বিঘ্ণ বিভেদ ভুলে যাবে মন,

সেই তো হবে মানবপ্রেমের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন৷

নোতুন দিনে সবার মনে জ্বালবো জ্ঞানের বাতি,

সহজ সরল মাটির মানুষ হবে পথের সাথী৷

বিশ্বপ্রেমে মনের বাঁধন অটুট হবে যবে,

নোতুন দিনের স্বপ্ণ তখন সফল হবেই হবে৷৷

নয়নতারা

লেখক
রাধাগোবিন্দ মন্ডল

নয়নের দুয়ারে তুমি আলোক প্রদীপ

না তুমিই নয়নতারা

এ কথার স্বরূপ বুঝতে

হই আমি দিশাহারা৷

 

দুর্ভাগ্যময় জীবনের তুমি প্রেমদাতা

না সাজতে প্রেমগুরু তুমি

জন্ম নিয়েছ পৃথিবীতে

ঘুচাতে চোখের ছানি৷

 

মোদের রাজত্বে আজ সন্ত্রাস ঢুকেছে

না সন্ত্রাসের জন্ম এখানেই

সর্বনাশা তুফান আসুক

কাণ্ডারী আছে ভয় নাই৷

প্রভাতী

লেখক
প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

ও–ই ঘুচেছে অন্ধকার–

ও–ই খুলেছে বদ্ধদ্বার

ভোরের আলোর আলতো চুম

কাঁপালো শরীর ভাঙলো ঘুম৷

কালো রাতের বক্ষ চিরে

আলোর ধারা ঝরুক শিরে৷

বিহঙ্গরা ছেড়েছে নীড়,

ঢেউ ভেঙেছে নদীর তীর৷

সবুজ ক্ষেতের অবুঝ হাসি,

রাখাল বাজায় খুশীর বাঁশি

পাপড়ি মেলে ফুল দুললো

মউমাছিরা উৎফুল্ল৷

পাখীর শিসে ধানের শীষে

আনন্দ আজ কার যে কিসে৷

ভোরের আলো গায়ে মেখে

ঘর থেকে সব আনছে ডেকে৷

দুষ্টু যত ছেলেমেয়ে

বন বাদাড়ে ছুটছে ধেয়ে৷

ও–ই ঘুচেছে অন্ধকার

লাগলো প্রাণে ছন্দ কার?