হাজার হাজার বছর ধরে অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারের আবর্জনায় ভরা মনুর সমাজ শাস্ত্র আঁতুড় ঘর থেকে শ্মাশানঘাট পেরিয়ে শ্রাদ্ধের আসর---জগদ্দল পাথরের মত হিন্দু সমাজের বুকের চেপে বসে শোষণ চালাচ্ছে৷ মনুর এই স্মৃতিশাস্ত্রই হিন্দু সমাজের অধঃপতনের কারণ৷ অন্যকোন ধর্মমত বা সেই মতের অনুগামীরা হিন্দু সমাজের কোন ক্ষতি করতে পারবে না৷
মনুর সমাজ শাস্ত্রে নিয়মকানুনের কঠোরতায় মানুষ সর্বদাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকতো৷ যার ফলে মানব সভ্যতার বয়স প্রায় ১৫ হাজার বছর হলেও আদর্শ মানব সমাজ আজও তৈরী হয়নি৷
মনুবাদী শাস্ত্রের কঠোরতার কারণে মানুষের মনে শাস্ত্র সম্পর্কে অনিহা দেখা দেয়৷ আজকের মানুষ সমাজ শাস্ত্রের বিধান তাই মানতে চায় না৷ এদের দৃষ্টিভঙ্গীতে সমাজ ঘটনে শাস্ত্রের প্রয়োজন নেই৷ এই মনোভাবই বর্তমান সমাজে অধঃপতনের অন্যতম কারণ৷ এই প্রসঙ্গে আনন্দমার্গের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তি বলেছেন---
জড় জাগতিক ক্ষেত্রে শাস্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে যা মানুষের মানসিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রতিটি ঊহ-অবোহকে বিধিসম্মতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যাবে৷ একটুও ছন্দপতন হলে চলবে না৷ একটুও বেসুরো গাইলে চলবে না৷ এই যে জড় জাগতিক শাস্ত্র, এর সঙ্গেও দরকার উন্নতধী অনলপুরুষের বলিষ্ঠ হস্তসঞ্চালন৷ অন্যথায় মানব সম্পদের কষ্টপ্রস্তুত গুড় স্বার্থলোলুপ ভোগগৃধ্নু পিঁপড়ের দলই নিঃশেষে খেয়ে শেষ করে দেবে৷ মানুষের মনোজগতের শ্যামল শস্যকে ৰেড়ার ফাঁক দিয়ে শিং গলিয়ে পশুরা উজাড় করে খেয়ে ফেলবে৷ এই শাস্ত্রই হ’ল সমাজশাস্ত্র৷ আর এই সমাজশাস্ত্র মানুষের মনে যে সংবৃত্তির উদ্বোধন ঘটাবে তা’ হচ্ছে সমাজ-মানসিকতা৷
এই সমাজ মানসিকতা গড়ে না উঠলে আদর্শ সমাজ তৈরী কখনই সম্ভব নয়৷ তাই আনন্দমূর্ত্তিজী আদর্শ সমাজ ঘটনের জন্যে তাঁর প্রবর্ত্তিত আনন্দমার্গ দর্শনে আধ্যাত্মিক দর্শন, আধ্যাত্মিক সাধনা পদ্ধতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, নব্যমানবতাবাদ, শিক্ষানীতি প্রভৃতি সংযোজন করেছেন তেমনি শাস্ত্রের নামে শোষণ উচ্ছেদ করতে তিনি দিলেন নোতুন সমাজ শাস্ত্র আনন্দমার্গে চর্যাচর্য৷ মানুষের দৈহিক মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের দিকে লক্ষ্য রেখেই এই সমাজশাস্ত্র তৈরী করেছেন৷ কারণ আনন্দমার্গ যে আদর্শসমাজ ঘটন করতে চায় সেখানে মনুর স্মৃতিশাস্ত্র কোনরূপ সহায়ক হবে না৷ আনন্দমার্গের সমাজশাস্ত্র বিষয়ে তিনি বলেছেন---
মানুষের প্রয়োজন বুঝে তাদের মনের কথা ভেবে সমাজের বিধি নিষেধ তৈরী করা হয়েছে৷ মানুষের দৈহিক মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশ যাতে হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয়েছে৷
যা সত্য তাকেই গ্রহণ করা হয়েছে, মেকী ভদ্রতার খাতিরে সমাজের পুঁতিগন্ধময় দিকগুলোকে মেনে নেওয়া হয়নি৷
- Log in to post comments